শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় আঙ্গুর চাষ

বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় আঙ্গুর চাষ

যশোরের সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রাম। ইউটিউব দেখে আঙ্গুর চাষের প্রতি আকৃষ্ট হন এ গ্রামের কৃষক মুনসুর আলী। আগ্রহ থেকেই দেশের মাটিতে এ ফলের চাষ শুরু করেন তিনি। এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুরের ছড়া। ফলনের পরিমাণ এত বেশি হয়েছে যে গাছের প্রতি দুই তিনটি পাতা পরপরই শোভা পাচ্ছে আঙ্গুরের থোকা।

তিনি জানান, ‘ভারতে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২০২১ সালের জুন-জুলাই মাসের দিকে চয়ন জাতের ১২০টি আঙ্গুর গাছের চারা সংগ্রহ করে ৩৩ শতক জমিতে রোপণ করেন। গতবছরই সুমিষ্ট ফল আসে সেই গাছে। প্রথম বছর সব ফল এলাকাবাসীকে দিয়ে দিয়েছেন। এবছরও প্রচুর ফল এসেছে গাছে।

এদিকে চলতি বছর যে ফলন হয়েছে তাতে ক্ষেত তৈরির খরচ উঠে আরও ৪ লাখ টাকা লাভ হবে বলে দাবি মুনসুর আলীর। পাশাপাশি সফলতা পাওয়ায় নতুন করে আরও দুই বিঘা জমিতে চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এজন্য ইতালি থেকে ৪৫টি সিডলেস আঙ্গুরের চারাও সংগ্রহ করেছেন মনসুর।

এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মুনসুর আলীর আঙ্গুরর ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন। দেশের মাটিতে আঙ্গুরের চাষ দেখে অভিভূত তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা জানান, আঙ্গুর ফল খেলেও এর চাষ ও গাছ কখনোই দেখেননি তারা।

এ দিকে মুনসুরের আঙ্গুর চাষ দেখে বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকে। কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চারা। দেশে আঙ্গুর চাষ করলে আর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক চাকরিজীবী বলেন, মনসুর আলীর কাছ থেকে চাষ পদ্ধতি শুনেছি। আমিও আঙ্গুর চাষ করতে চাই।

এ ধরনের চাষে কৃষকদের উৎসাহী করতে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানান যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আলী। 

তিনি বলেন, ‘মনসুর আলীর আঙ্গুর চাষ দেখেছি। অনেক ফলনও এসেছে। আঙ্গুর চাষে উৎসাহী কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত কৃষিবিভাগ।’

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: