মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

১২ বছরেও অপসারণ হয়নি নওগাঁর অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

১২ বছরেও অপসারণ হয়নি নওগাঁর অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

সংগৃহীত

নওগাঁ শহরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় অর্ধশত ভবন অপসারণের উদ্যোগ থমকে আছে এক যুগ ধরে। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা বা সংস্কারের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন শহরবাসী। সম্প্রতি সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো নওগাঁতেও একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এসব ভবন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০১৩ সালে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর নওগাঁ পৌর এলাকার প্রায় অর্ধশত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে পৌর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে নওগাঁ পৌর কর্তৃপক্ষ পৌর এলাকায় সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে ৪৩টি পুরাতন ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও এসব ভবনে এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত এসব পুরাতন ভবনের বেশিরভাগই নওগাঁ শহরের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে নওগাঁ পৌরসভার মালিকানাধীন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল,জেলা মাছ বাজারের পূর্ব অংশ,জেলা সমবায় অফিসারের কার্যালয়, পুরাতন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত সাবেক রূপালী ব্যাংক ভবন, চকএনায়েত মহল্লার একটি প্রি-ক্যাডেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ডাবপট্টির বদীর বিল্ডিং ও চুড়িপট্টির ভবানী ভাণ্ডার। এসব ভবনের নিচে ও আশপাশে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল রয়েছে। এসব ভবনের কোথাও ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম, আবার কোথাও বসবাস চলছে। জনবহুল সড়কের ধারে অবস্থিত এসব ভবন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনায় জানমাল রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন নওগাঁর সচেতন মহলের।

নওগাঁ শহররে চুড়িপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন,আমাদের দোকান যে বিল্ডিংয়ে, সেটি বহু আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু দোকান বন্ধ করলে পরিবার চালাব কীভাবে? প্রতিদিন ভয় নিয়েই দোকান খুলছি। হঠাৎ বড় ভূমিকম্প হলে আমরা বের হওয়ার সুযোগও পাব না।

শহরের ডাবপট্টি এলাকার গৃহবধূ রাবেয়া খাতুন বলেন, এই ভবনের ওপরের তলায় আমরা পরিবার নিয়ে থাকি। মাঝেমধ্যেই দেয়ালে ফাটল দেখা যায়। ভূমিকম্প হলে শিশুদের নিয়ে কোথায় যাব সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।

শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডের এক পথচারী বাতেন আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। পুরাতন বিল্ডিং গুলোর পাশ দিয়ে হাঁটতে বুক ধড়ফড় করে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতি দ্রুত এই বিল্ডিংগুলো সরানো প্রয়োজন। 

নওগাঁ বালুডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার হেলপার শফিকুল ইসলাম বলেন, বাস টার্মিনাল সব সময় মানুষে ভরা থাকে। ভবনগুলো এত পুরাতন যে একটু নড়াচড়া হলেই ভেঙে পড়বে মনে হয়। দুর্ঘটনা হলে এখানে প্রাণহানি ঠেকানো যাবে না। বড় কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে সরকারের টনক নড়বেনা। দীর্ঘদিন থেকে শুনে আসছি এখানে নাকি নতুন বিল্ডিং তৈরি হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন খবর নাই। 

নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ডি এম আব্দুল বারী বলেন,কিছুদিন থেকে যখন-তখন ভূমিকম্প হচ্ছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে নওগাঁয় যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনগুলো দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি এম এ মমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌর এলাকায় ,ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বেসরকারি ভবন গুলো নিজ উদ্যোগে অপসারণ করে নেওয়ার জন্য মালিকদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলেই দ্রুত সরকারি মালিকানাধীন ভবনগুলো অপসারণ করা হবে।

মনিরুল ইসলাম শামীম/আরকে

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ: