সংগৃহীত
দিনাজপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় নওয়াবুর রহমান নামে এক পুলিশের সিআইডি বিভাগের পরিদর্শকসহ তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইকের চালককে আটকের সময় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সেচ্ছাসেবক নেতার নাম উল্লেখ করে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় ।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুর শহরের শিশু পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নওয়াবুর রহমান দিনাজপুর পুলিশের সিআইডি বিভাগে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নওয়াবুর রহমান গতকাল সকালে ছেলে মাহিরকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চাউলিয়াপন্টির একটি কোচিং সেন্টারের উদ্দেশ্য যাচ্ছিলেন। এ সময়ে শহরের শিশু পার্ক এলাকায় পৌঁছালে অপরদিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি ইজিবাইক মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এ সময়ে নওয়াবুর ও তার ছেলে ছিটকে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় নওয়াবুর রহমানের ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ সময়ে নওয়াবুর রহমান নিকটস্থ পুলিশ ফাড়িকে বিষয়টি জানালে সেখানে পুলিশের একটি দল এসে ইজিবাইকসহ চালককে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে এবং ইজিবাইকসহ চালককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নওয়াবুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী দিনাজপুর পুলিশের সিআইডির পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান বলেন, গতকাল সকালে ছেলেকে নিয়ে কোচিং যাচ্ছিলাম। এসময়ে শিশু পার্ক এলাকায় পৌঁছালে অপরদিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা করি ইজিবাইক ধাক্কা দেয়। এতে আমার হাত ভেঙে যায় এবং আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়িতে জানালে তারা এসে ইজিবাইকসহ চালককে আটক করেন। পরে জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ঘাতককে ছিনিয়ে নেয়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী বলেন, পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ঘাতককে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা করি।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

















