সংগৃহীত
১৮ বছরে প্রথমবার আইপিএলের শিরোপা জয়ের পর সেটি ধরে রাখার মিশন দারুণভাবেই শুরু করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গতকাল (শনিবার) ১৯তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কোহলি-পাতিদারের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। ইশান কিষাণের নেতৃত্বাধীন হায়দরাবাদ ২০২ রানের বড় লক্ষ্য দিলেও কোহলি-পাদিক্কালের ব্যাটে বেঙ্গালুরু জিতেছে স্রেফ ১৫.৪ ওভারে। যা দুইশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়ায় আইপিএলের সবচেয়ে দ্রুততম জয়।
এই জয়ে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোহলি। ৩৮ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৬৯ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া এই ভারতীয় তারকা প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে রান তাড়ায় ৪০০০ রানের (এখন পর্যন্ত ৪০২৭ রান) মাইলফলক পূর্ণ করেছেন। কোহলির ধারেকাছে নেই আর কেউ। লক্ষ্য তাড়ায় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকায় কোহলির পর আছেন ডেভিড ওয়ার্নার (৩২৮৫), রোহিত শর্মা (৩২৩৮), শিখর ধাওয়ান (২৮৪৩) ও রবিন উথাপ্পা (২৮৩২)।
গতকাল আইপিএলে নামার আগে সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি ম্যাচ খেলেছিলেন কোহলি। সাবেক ভারতীয় এই অধিনায়ক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লম্বা বিরতির পর মাঠে নামাই স্বাভাবিক। মাঠে ফিরে স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ের রহস্য নিয়ে তিনি বললেন, ‘গত ১৫ বছরে আমরা যে পরিমাণ ক্রিকেট খেলেছি, আমার ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত অবস্থায় মাঠে নামলে সবসময়ই পুড়ে (ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়া) যাওয়ার শঙ্কা থাকত। তাই এই বিরতি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি সতেজ, রোমাঞ্চিত আছি। যখনই খেলায় ফিরি ১২০ শতাংশ নিয়ে আসি। অপ্রস্তুত বা কম প্রস্তুতি নিয়ে আমি ফিরি না।’
কোহলি আরও বলেন, ‘(খেলায়) মূলত অতিরিক্ত বিরতি মানসিকভাবে আমাকে চাঙা রাখে। যত বেশি সম্ভব শারীরিকভাবে ফিট এবং সেটি মানসিকভাবেও অনুভব করা যায়, উভয় একসঙ্গে ভালো ফল নিয়ে আসে। যা আপনাকে দলের জন্য প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে। খেলোয়াড় হিসেবে আপনি এটাই করতে চাইবেন। আপনি একটি জায়গা দখল করে থাকতে চাইবেন না। পারফর্ম করতে চাইবেন, দলের জন্য নিবেদন অব্যাহত রাখবেন।’
এবারের আইপিএল শুরুর আগে জানুয়ারিতে নিজের সর্বশেষ ম্যাচগুলোয় নিউজিল্যান্ড সিরিজে ৯৩, ২৩ এবং ১২৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এই তারকা ব্যাটার। ওয়ানডে সিরিজটিতে ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও ছিলেন তিনি। এর আগে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও দুই সেঞ্চুরিসহ ৩০২ রান করেছেন। মাঝে বিরতি থাকলেও, কোহলি যেন সেই ফর্ম নিয়েই হাজির হলেন গতকাল। হায়দরাবাদের বিপক্ষে জয় নিশ্চিতের পথে তিনি হার্শাল প্যাটেলের ১৬তম ওভারে ৪ বলে এক ছক্কা ও তিনটি চারের বাউন্ডারি খেলেছেন। সবমিলিয়ে ৩৮ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৬৯ রান আসে কোহলির ব্যাটে। অথচ এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে তিনি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন।
সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজ থেকে মোমেন্টাম পেয়েছেন কোহলি, ‘একই ধরনের মোমেন্টামের মাঝে আছি। আমি সাধারণত এভাবে শট খেলি না। আমি জানতাম যে ছন্দে আছি এবং এর পেছনে ফিটনেস ধরে রাখতে যতটা সম্ভব শারীরিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। দারুণভাবে সেটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। আজ রাতে আরেকটি শক্তিশালী শুরুর সুযোগ পেয়েছি।’
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট





.webp)











.webp)


