সংগৃহীত
লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। ইশতেহার ঘোষণার পর দ্বিতীয়বারের মতো ‘ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের একটি হলরুমে আয়োজিত এই সভায় সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক স্পিকার খালিস আহমদ, কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদা রহমান, সাদ চৌধুরী, জগলুল খানসহ লেবার পার্টির নেতারা।
ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিরের সঞ্চালনায় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, সাবেক সভাপতি ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ ও অধ্যাপক সাজিদুর রহমান, সহ-সভাপতি এসকেএম আশরাফুল হুদা, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ঘোষিত ইশতেহারে সুশাসন, আবাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২৫টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কাউন্সিলে যথাযথ শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি প্রদানের পাশাপাশি প্রথম দুই বছর কাউন্সিল ট্যাক্স স্থির রাখার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ সামাজিক আবাসন নির্মাণ বা পুনঃক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ১০,০০০ পরিবারকে সহায়তা করা হবে। শিক্ষা খাতে প্রাথমিক থেকে জিসিএসই পর্যন্ত ইংরেজি ও গণিতে অতিরিক্ত টিউশন সুবিধা, বিনামূল্যে স্কুল মিল এবং শিক্ষা ভাতা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ গড়তে পাড়াভিত্তিক পুলিশিং জোরদার, সিসিটিভি বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা জানান সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (Recycling) নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে গৃহসেবা চালুর পাশাপাশি বৈশাখী মেলা ও ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম জানান, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ‘গণসংলাপ’ এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ‘মেয়রকে জিজ্ঞাসা করুন’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
সভায় উপস্থিত লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা সমর্থন দিয়ে লেবার পার্টিকে বিজয়ী করবেন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
















