সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক কিশোরীকে দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণে প্রথমে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠলেও চার দিন পর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। তবে মামলার চার আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই কিশোরী খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ১ নম্বর আসামি আবু তাহেরের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে তাকে জোরপূর্বক ভেতরে টেনে নেওয়া হয়। সেখানে ভোর ৪টা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
ভোর ৪টার দিকে স্থানীয় তিন যুবক— রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া, মো. ফারুক ও আনোয়ার হোসাইন বিষয়টি জানতে পারলে আবু তাহের কিশোরীকে তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর তারা কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি বিলে নিয়ে যান এবং ভোর ৫টা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে কিশোরী বাড়ি ফিরে তার মাকে ঘটনাটি জানায় এবং শনিবার সকালে তার মা বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় রায়পুর ইউনিয়নের ময়না গাজীর বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে আবু তাহের (৪২), পূর্ব গহিরা নতুন বাড়ির আব্দুর নূরের ছেলে রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া (২৪), পূর্ব গহিরা হাড়িয়া পাড়া এলাকার আজিজুল হকের ছেলে মো. ফারুক (২৩) এবং একই এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে আনোয়ার হোসাইনকে (২২) আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। সেখানে তার ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী তাকে দেখতে গিয়ে ঘটনার এতদিন পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, আসামিরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ডিবি পুলিশও আসামিদের ধরতে কাজ করছে।
এদিকে, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামীকাল ৫ মে রায়পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী বাজারে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট



















