সংগৃহীত
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটমূল্য নিয়ে হাহাকারের শেষ নেই। যা নিয়ে ফুটবলভক্তরা অনেক আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছিল ফিফাকে। যদিও ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ব্যাপক চাহিদার কারণেই দামের এমন উল্লম্ফন বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, ফুটবলারদের পরিবার ও স্বজনের জন্য টিকিট কিনতে গিয়ে নতুন করে অসন্তোষ ফুটে উঠছে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দেশের অ্যাসোসিয়েশনের।
বেশ কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন ফুটবলারদের পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ বলছে, একটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তারা শত শত অতিরিক্ত টিকিটের আবেদন করেছেন এবং বিলের পরিমাণ দেখে বিস্মিত হয়েছেন। আরেক অ্যাসোসিয়েশনের এক নির্বাহীর দাবি– খেলোয়াড়দের পরিবার ও অতিথিদের ম্যাচে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতি টিকিটে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) খরচ পড়ছে। এতে টুর্নামেন্টের জন্য বরাদ্দ তহবিলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
যদিও ফিফা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কেনা টিকিটের গড় মূল্য ৩ হাজার ডলারের চেয়ে অনেক কম। অথচ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং মডেলের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্ধিত দামে বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বহু ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র শেষে ফিফা প্রতিযোগী দেশগুলোর ফেডারেশনকে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কেনার জন্য ছয় সপ্তাহের সময় দিয়েছিল। তবে জানুয়ারির পর থেকে অতিরিক্ত টিকিটের যেকোনো চাহিদা ফিফার ভাষায় “অ্যাডাপটিভ প্রাইসিং”-এর আওতায় পড়ে, ফলে অধিকাংশ ম্যাচের টিকিটের দাম বেড়ে যায়।
ফিফা বিপুল চাহিদার আশঙ্কায় বিশ্বকাপের টিকিট চার ধাপে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়– অক্টোবর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও এপ্রিলে। পরে আরও একটি শেষ মুহূর্তের বিক্রয়পর্ব ঘোষণা করা হয়। জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর টিকিট কেনার মূল সুযোগ ছিল ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্রয়ের পর, এরপর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। এদিকে, মার্চে কনফেডারেশন প্লে-অফের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনকারী ৬ দেশের জন্য ডিসেম্বরের মূল্যে কিছু টিকিট সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া সব অংশগ্রহণকারী দেশ তাদের সরকারি প্রতিনিধি দল ও অতিথিদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক বিনা মূল্যের টিকিটও পেয়েছে।
বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করার কথা উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। তবে ফিফা সূত্রের দাবি, বিক্রির শর্তাবলি শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল এবং যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেছে, তারা মূল্যবৃদ্ধির শিকার হয়নি। উদাহরণস্বরূপ– ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ডিসেম্বরে সব টিকিট কিনে ফেলায় তাদের ওপর বাড়তি দামের প্রভাব পড়েনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সীমিত বাজেটের ছোট দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মে মাসের শুরুতে ফিফা প্রতিটি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থাকে দেওয়া বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ ভাতা ১ কোটি ৫ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার করেছে। পাশাপাশি ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের ভ্রমণ ব্যয়ে সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবুও টুর্নামেন্ট থেকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে অনেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে, গত সপ্তাহে নিজ দেশের প্রথম ম্যাচের (যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচে ক্যাটাগরি-ওয়ান টিকিটের মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ ডলার) টিকিটের দাম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই সেখানে থাকতে চাই, কিন্তু সত্যি কথা বলতে টিকিটের জন্য আমি ওই দাম দিতাম না।’
অন্যদিকে, ফিফার প্ল্যাটফর্মের বাইরে টিকিটের দাম কমতে শুরু করেছে জানা গেছে। বিভিন্ন পুনর্বিক্রয় সাইট– স্টাবহাব, সিটগিক এবং ভিভিড সিটস-এর তথ্য বিশ্লেষণকারী টিকিটডাটা ডটকমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ৯১ ম্যাচের মধ্যে ৮৭টির সবচেয়ে কমদামের টিকিটে গত ১৪ দিনে মূল্যহ্রাস পেয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)

.webp)















.webp)

