সংগৃহীত
তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে বগুড়ায় বিমানবন্দর নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণসহ নানা আলোচনা চলছে। জমি অধিগ্রহণ, এমনকি অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ঘোষণাও এসেছে বারবার। কিন্তু এখনো বগুড়ার আকাশে ওড়েনি বাণিজ্যিক বিমান।
এই প্রকল্পকে উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার বলা হয়েছিল। পরে সেটি চলে যায় বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
তবে আওয়ামী লীগ সরকার বগুড়ার বিমানবন্দর নিয়ে আশা নতুন করে জাগায়। এখন আবার নতুন করে সেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিএনপির শাসনামলে। সরকার থেকে বলা হয়েছে, বগুড়ায় হবে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি।
গত ৩৯ বছরে বগুড়ার বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনা ও ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বদলেছে এই প্রকল্পের গতি ও গন্তব্যও।
বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে। ওই সময় প্রথম বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় সেই উদ্যোগ আর সামনে এগোয়নি।
এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও তখন শুরু হয়।
১৯৯৫ সালে বগুড়ার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
তবে প্রকল্পের দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। ওই সময় রানওয়ে, কার্যালয় ভবন, কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০০০ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও বগুড়া থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল তখনও শুরু করা হয়নি। এছাড়া তখনও বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে উপযুক্ত ছিল না।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে বিমানবন্দর প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। বগুড়ার এয়ারফিল্ডটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে।
দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর আবার আলোচনায় আসে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ওই বছরের ১ মার্চ বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালুর প্রস্তাব জানিয়ে একটি আবেদন যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে। আবেদনটি করেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলু। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।
২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর বেবিচকের প্রতিনিধি দল বগুড়া বিমানবন্দরের জন্য নির্ধারিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন বেবিচকের তৎকালীন উপসচিব ইশরাত জাহান পান্না। দলে আরও ছিলেন তৎকালীন উপ-পরিচালক (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মো. মাসুদ রানা, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব, সহকারী পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা ও সিনিয়র ড্রাফটম্যান কবির হোসেন। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলুও।
পরে ওই কমিটি বগুড়ায় বাণিজ্যিক বিমানবন্দর চালুর পক্ষে প্রতিবেদন দেয় বলে জানান বাবলু।
রেজাউল করিম বাবলু আরও জানান, ওই সময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বগুড়ায় বাণিজ্যিক বিমানবন্দর চালু করতে ব্যয়ের সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাও আলোচনা হয়েছে। তবে করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
সর্বশেষ ৭ মে বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে নতুন করে ঘোষণা দিল বিএনপি সরকার।
এদিন দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরিদর্শন শেষে তারা জানান, বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি ও পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট




.jpg)













