শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১৯৭০: ব্রাজিলের স্বপ্নের দল

১৯৭০: ব্রাজিলের স্বপ্নের দল

সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসে অনেক দলই ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে, কিন্তু ১৯৭০ সালের ব্রাজিল দলটির মতো আর কেউই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে এমন গভীর দাগ কাটতে পারেনি। সেবার মেক্সিকোর নীল আকাশের নিচে পেলেদের সেই হলুদ জার্সি পরিহিত দলটিকে আজও বলা হয় ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম স্বপ্নের দল।

এই দলটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের ফরমেশন। কোচ মারিও জাগালো এমন এক দুঃসাহসী পরিকল্পনা করেছিলেন, যেখানে একই সাথে পাঁচজন খেলোয়াড় খেলতেন যারা নিজ ক্লাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিলেন। পেলে, জারজিনহো, তোস্তাও, রিভেললিনো এবং গেরসন- এই পাঁচজন ফুটবলার যখন একসঙ্গে খেলতেন, তখন ফুটবল মাঠ যেন হয়ে উঠেছিল এক বিশাল ক্যানভাস।

এদিকে ১৯৬২ এবং ১৯৬৬ সালের ইনজুরির দুঃস্বপ্ন ভুলে এই আসরে পেলে ফিরেছিলেন এক নতুন রূপে। আসরের প্রতিটি ম্যাচে জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে জুলেরিমে ট্রফিটি চিরতরে নিজেদের শোকেসে নিয়ে যায় সেলেসাওরা।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে হয়েছে কিছু অবিশ্বাস্য রেকর্ড। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে গোল করে এক অনন্য কীর্তি গড়েন ব্রাজিলের উইঙ্গার জাইরজিনহো। ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের ঘিঘিয়ার পর এই রেকর্ডটি গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজও এই রেকর্ড গড়তে পারেননি তৃতীয় কোনো ফুটবলার। এছাড়া ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়েন পেলে।

এদিকে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করার রেকর্ড গড়েন জার্মানির গার্ড মুলার। তার এই রেকর্ডটি এখনও অক্ষতই রয়েছে। তাছাড়া টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কীর্তিও গড়েছিলেন মুলার। এছাড়া এই আসরেই প্রথমবার কার্ডের নিয়ম চালু হলেও পুরো আসরে একটি লাল কার্ডও দেখাতে হয়নি রেফারিদের।

কৌশল ও প্রযুক্তির দিক থেকেও ১৯৭০ বিশ্বকাপ ছিল আধুনিক ফুটবলের ভিত্তিপ্রস্তর। মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৩২টি ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ৯৫টি, যার গড় ছিল ম্যাচ প্রতি ২.৯৭টি।

সেমিফাইনালে ইতালি ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লড়াই। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে ইতালি ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা পরবর্তীতে শতাব্দীর সেরা ম্যাচের খেতাব পায়।

এই আসরেই ফুটবলে প্রথমবার রেফারিদের সুবিধার্থে লাল ও হলুদ কার্ডের নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, নিয়ম চালু হলেও পুরো টুর্নামেন্টে রেফারিদের একটিও লাল কার্ড দেখাতে হয়নি।

ফুটবলকে আরও গতিশীল করতে এবং ইনজুরি এড়াতে এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ম্যাচ চলাকালীন অফিশিয়ালি খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম প্রবর্তন করা হয়।

১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ মূলত ফুটবলকে তার প্রথাগত রূপ থেকে বের করে এক বৈশ্বিক উৎসবে রূপ দিয়েছিল। আর পেলের বিদায়ী মঞ্চে ব্রাজিলের সেই নান্দনিক সাম্বা ফুটবল আজও প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর মনে রোমান্টিকতার এক পশলা হাওয়া দিয়ে যায়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: