সংগৃহীত
স্বামী হারিয়েছেন বহু বছর আগে। চোখের সামনেই মারা গেছে দুই প্রতিবন্ধী ছেলেও। একমাত্র মেয়েটি সুদূর ভারতে থাকলেও নেন না কোনো খোঁজখবর। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় সব আপনজনকে হারিয়ে অবশেষে ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জ্যোৎস্না রানী সাহার ঠাঁই হয়েছিল মন্দিরের সিঁড়িঘরের এক অন্ধকার কোণে। নিঃসঙ্গ ও মানবেতর জীবনের সেই করুণ অধ্যায়ে অবশেষে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ালেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।
গত ১৫ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন এই বৃদ্ধা। খবর পেয়ে গত শনিবার (৬ জুন) তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান ছাত্রদল নেতা নাহিদ। একই সাথে তার চিকিৎসা ও সার্বিক দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
জানা গেছে, কুমিল্লার গৌরীপুরের মুজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্যোৎস্না রানী সাহা। পরিবারসহ একসময় চলে আসেন নরসিংদী শহরের উত্তর কান্দাপাড়ায়; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামী নগেন্দ্র সাহা মারা যাওয়ার পর চরম সংকটে পড়ে পরিবারটি। দুই প্রতিবন্ধী ছেলের অকাল মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়ে ভারতের বাসিন্দা হলেও মায়ের কোনো দায়িত্ব নেননি।
বিগত প্রায় আট মাস ধরে নরসিংদী শহরের গোপীনাথ জিওর মন্দিরের সিঁড়িঘরের একটি কোণায় কোনো রকমে দিন পার করছিলেন এই বৃদ্ধা। ভক্তদের দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা জ্যোৎস্না রানীর শরীর গত দুই সপ্তাহে চরম ভেঙে পড়ে।
গোপীনাথ জিও মন্দিরের সদস্য ও জেলা বিএনপি সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপঙ্কর সাহা রানা বলেন, “অনেক দিন যাবৎ দেখছি উনি অসুস্থ হয়ে আশ্রমের এক কোণায় একা একা বসে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আমি জেলা ছাত্রদলকে জানাই। তারা তাৎক্ষণিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং উনার সুচিকিৎসার সব দায়িত্ব নেয়।”
নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বয়সজনিত কারণে জ্যোৎস্না বেগমের কোমরে তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তবে বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তুহিনা বলেন, “বয়সের ভারে উনি একদম কাতর হয়ে পড়েছেন, সারা শরীরেই নানা রোগ। হাসপাতালে আসার পর থেকে আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি। উনি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো আছেন।”
সহায়-সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আমি আমার নিজের মায়ের জানাজা ও দাফন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আজ শত কোটি টাকা দিলেও আমি আমার মাকে আর ফিরে পাব না। তাই আমি মনে করি, নরসিংদী সদর ও পৌরসভার যত মায়েরা আছেন, তাদের সকলের বিপদ-আপদে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। মানবিক দিক থেকে একজন মাকে এভাবে ফেলে রাখা যায় না। আমরা উনাকে নিজের মায়ের মতো উপলব্ধি করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করেছি।”
তিনি আরও জানান, বৃদ্ধা সুস্থ হয়ে উঠলে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উনাকে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সমস্ত দায়িত্ব ছাত্রদল পালন করবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)

.webp)
.webp)
.webp)
.webp)











.webp)
.webp)
.webp)