বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মুনাফা বাড়লেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ কমালো ইস্টার্ন ব্যাংক

মুনাফা বাড়লেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ কমালো ইস্টার্ন ব্যাংক

সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ হিসাব বছরে ৯০১ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরের ৬৬০ কোটি টাকার তুলনায় যা ২০ শতাংশ বেশি। এই বড় অংকের মুনাফা অর্জন করেও ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির পর্ষদ সার্বিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশের পরিমাণ কমিয়েছে। যদিও ঘোষণা অনুযায়ী, নগদ লভ্যাংশের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে ইস্টার্ন ব্যাংকের পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক রয়েছে। ২০২৪ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি এই লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে ব্যাংকটির এক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) বিষয়টি জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ইস্টার্ন ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫৫ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকটির ঋণ ও অগ্রিম ১৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। গত বছর ইস্টার্ন ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

২০২৫ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণও কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে ২ দশমিক ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ব্যাংকটির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। কস্ট টু ইনকাম অনুপাত হয়েছে ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত বছরে মূলধন ভিত্তি আরো শক্তিশালী করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির একক ভিত্তিতে ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ।

২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৮৬ পয়সায়।

১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৯৫ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ৩৮৮। এর ৩১ দশমিক ৪৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪০ দশমিক ৮৪, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক ৬৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ২৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২০ টাকা ৭০ থেকে ২৮ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট