বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে—ইরান বলছে না, কোনটি সত্য?

যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে—ইরান বলছে না, কোনটি সত্য?

সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে ‘আলোচনা’ ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে।

ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং আর্থিক ও তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই বিপরীতমুখী অবস্থান শুধু কূটনৈতিক বিভ্রান্তি নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ।

ট্রাম্পের আলোচনার দাবি এমন এক সময়ে করেছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনার সাথে সঙ্গতি রেখে দুই সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ওঠানামা করেছে, যার ফলে গত সপ্তাহে তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে আলোচনার বার্তা দেওয়া বাজারকে স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের অস্বীকার বাজারে অনিশ্চয়তা ধরে রাখে—যা তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ‘আলোচনা’ প্রসঙ্গটি ওয়াশিংটনের জন্য বহুমুখী কৌশল হতে পারে। যেমন- সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে সময় নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি, অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপ কমানো।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ এক যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা। এতে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে এবং দুই আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্তি। এতে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে, তবে অপূর্ণ অভিযান নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প অতীতে সংকট থেকে চুক্তির মাধ্যমে বেরিয়ে আসার প্রবণতা দেখিয়েছেন, যা এই পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংঘাতের ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। তেহরান মনে করছে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

একই সঙ্গে, ইরানের ভেতরে দুই ধরনের ভাবনা সক্রিয় কট্টরপন্থী অবস্থান যা সংঘাত দীর্ঘায়িত করে কৌশলগত সুবিধা অর্জন এবং মধ্যপন্থি অবস্থান যা সীমিত অর্জনের পর আলোচনায় ফেরা।

বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী-এ প্রভাব বাড়ানো বা ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা পায়, তাহলে আলোচনার পথ খুলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করে বলা কঠিন, প্রকৃতপক্ষে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে কিনা। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে ভিন্ন বয়ান দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংঘাতে প্রকাশ্য বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- সামরিক গতিবিধি, অর্থনৈতিক সংকেত এবং কূটনৈতিক আচরণ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় “আলোচনা” এখন বাস্তবতার পাশাপাশি একটি কৌশলগত হাতিয়ার। কেউই পুরো সত্য প্রকাশ করছে না। বরং নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী আংশিক সত্য তুলে ধরছে। ফলে, এই মুহূর্তে প্রশ্নটা কে সত্য বলছে সেটা নয় বরং কার বয়ান কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিশ্লেষণের বিষয়।

এসএইচএ 

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট