বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চুক্তি শিগগিরই

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত

রুশ ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পর রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের প্রথম চুক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে। বুধবার ক্রেমলিনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের চুক্তির ওই তথ্য জানিয়েছেন।

কিরিল দিমিত্রিভ বলেছেন, ‌‌‘‘সবকিছুই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটবে। আমরা মার্কিন পক্ষের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ এবং প্রতি ঘণ্টার ভিত্তিতে যোগাযোগ রাখছি এবং সবকিছু খুব দ্রুত এগোচ্ছে।’’

এর আগে, গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জ্বালানির মূল্য কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। তার এমন মন্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসন রুশ জ্বালানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এই নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোর রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি, বাসা-বাড়ি গরম রাখা এবং ট্রাক পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বর্তমানে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে; যা কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সূক্ষ্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে কি না তা নির্ধারণ করবে, এটি তার দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ডিজেলের দাম কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এ চুক্তিটি যথেষ্ঠ নাও হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ‘‘অত্যন্ত সফল’’ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহে রাজি হয়েছে রাশিয়া; যা প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানির সমান। যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে।

ফোনালাপের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিভ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী সহযোগিতার প্রশংসা করেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র বলেছে, গত মাসে ওয়াশিংটন সফরের সময় দিমিত্রিভ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে রাশিয়ার প্রধান প্রধান সব তেল কোম্পানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেল রপ্তানির অনুমোদন বা লাইসেন্স দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

২০২২ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের জের ধরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই ডিজেল রপ্তানি থেকে মস্কো শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব পাবে; যা পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

যুদ্ধের একটি সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তির সমালোচনা করে একে ‘‘শক্তিশালী অংশীদারদের পক্ষ থেকে নেওয়া দুর্বল সিদ্ধান্ত’’ বলে অভিহিত করেছেন।

এক্সে তিনি লেখেন, পুতিনকে এসব উপহার দেওয়া সুশীল বিশ্বের জন্য কোনো শান্তি বা সুফল বয়ে আনবে না। রাশিয়া এই ডিজেলের বিনিময় দেবে সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে।

ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকনসহ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতাও এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। বেকন বলেছেন, এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সময় নয়, বরং সম্প্রতি কংগ্রেস যেসব নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে তা আরও প্রয়োগ করার সময়।

এক্সে বেকন লেখেন, পুতিন যখন অনবরত ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করে চলেছেন, তখন তার হাতে আরও অর্থ দিয়ে এই স্বৈরাচারীকে পুরস্কৃত করার বদলে, এখন সময় এসেছে এসব নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে চেপে ধরার।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ একটি লাইসেন্স জারি করেছে। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রুশ ডিজেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এর চেয়েও বেশি সরবরাহ আসবে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: