সংগৃহীত
বাংলাদেশি ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা সালাহউদ্দীন সুমন এবং তার সহযাত্রী নিলয় কুমার বিশ্বাস সম্প্রতি ব্রাজিলের অ্যামাজন রেইনফরেস্টে একটি অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তাদের যাত্রা শুরু হয় ব্রাজিলের মানাউস শহর থেকে। অভিযানের আয়োজন করে অ্যামাজনভিত্তিক পর্যটন সংস্থা অ্যামাজন জেরো ট্যুরস।
মানাউস থেকে তারা রিও নিগ্রো এবং রিও সলিমোয়েস নদীপথে যাত্রা করেন এবং বিখ্যাত প্রাকৃতিক ঘটনা ‘মিটিং অব দ্য ওয়াটারস’ প্রত্যক্ষ করেন। এখানে রিও নিগ্রোর কালো পানি এবং রিও সলিমোয়েসের হালকা রঙের পানি পাশাপাশি প্রবাহিত হলেও তাপমাত্রা, গতি ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে তা সঙ্গে সঙ্গে মিশে যায় না।
পরবর্তীতে তারা মামোরি নদী পার হয়ে আরও গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেন। অভিযানের সময় সুমন ও নিলয় অ্যামাজনের ঘন অরণ্যে বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেখা পান। মমোরি নদীতে তারা বেশ কিছু ধুসর ডলফিন দেখতে পান যেগুলো দেখতে বেশ ছোট আকৃতির কিন্তু গতিময়।
এছাড়া তারা কাইম্যান নামক বিশেষ প্রজাতির কুমিরের দেখা পান যে প্রজাতির কুমিরগুলোর অ্যামাজন রেইনফরেস্টের জলাশয়ে হরহামেশাই দেখা যায়।
এছাড়াও স্কুইরেল বানর, ক্যাপুচিন বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা পান। রিও নিগ্রোর পানিতে গোলাপি রঙের ডলফিনের সঙ্গে সাঁতারের অভিজ্ঞতা তাদের অভিযানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
তারা বিভিন্ন ওষুধি গাছ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং জঙ্গলে টিকে থাকার কিছু মৌলিক কৌশলও শেখেন। অভিযানে তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন অভিজ্ঞ জঙ্গল গাইড মি. জেরো এবং মি. মার্কো, যারা কয়েক দশক ধরে অ্যামাজনে পর্যটকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন। অভিযানের সময় তারা অ্যামাজনের অন্যতম পরিচিত মাছ পিরানহাও ধরেন, যা এই অঞ্চলের নদীপথে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
জঙ্গলে অবস্থানকালে তারা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ এবং নদীর ডলফিনও দেখতে পান। এছাড়া স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তারা কথা বলেন এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।
অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন সুমন বলেন, অ্যামাজন ঘুরে দেখা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তিনি বলেন, আমি সবসময় চেয়েছি অ্যামাজন ঘুরে দেখতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের সামনে এই জঙ্গলকে তুলে ধরতে। অ্যামাজন নিয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি কনটেন্ট নেই, অথচ মানুষের আগ্রহ অনেক।
নিলয় কুমার বিশ্বাস বলেন, ছোটোবেলা থেকেই অ্যামাজন তাকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ডকুমেন্টারি দেখা এবং অ্যামাজন নিয়ে বিভিন্ন গল্প পড়ার মাধ্যমে এই জায়গাটি আমার কল্পনায় বড় জায়গা করে নিয়েছিল। বাস্তবে এখানে আসতে পারা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।
অ্যামাজন জেরো ট্যুরস এর মালিক জেরো বলেন, সুমন ও নিলয়কে আতিথ্য দিতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি বলেন, যারা অ্যামাজনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের গাইড করতে পারা আমাদের জন্য সবসময়ই আনন্দের।
অ্যামাজন ভ্রমণটি সালাহউদ্দিন সুমনের দক্ষিণ আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের অংশ। এই অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে তার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ডট ইন্টারনেট।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট



















