Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.216.90): Failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/dainikbogura.com/public_html/details.php on line 126

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মহাশক্তিদের মাঝে ভারসাম্য: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে ঢাকা

মহাশক্তিদের মাঝে ভারসাম্য: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে ঢাকা

সংগৃহীত

ঢাকা: ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের এই বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন জোরালোভাবে বজায় রাখছে। সরকারের নীতি নির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বৈদেশিক সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট বৈশ্বিক শক্তির ব্লকে যোগ দেওয়ার জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারত নির্বাচন করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে আসে। এই সফরের পর বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতির বিষয়টি সামনে এলো।

বাস্তবমুখী কূটনীতির দৃষ্টান্ত

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি স্বাভাবিক ও গঠনমূলক অংশ হিসেবে দেখা উচিত। উদাহরণস্বরূপ তারা উল্লেখ করেন যে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মতো পরাশক্তিগুলোও তাদের নিজস্ব গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

ওয়াশিংটন, মস্কো, লন্ডন বা নয়া দিল্লি যদি নিজেদের জাতীয় স্বার্থে বেইজিংয়ের সাথে আলোচনা ও বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে, তবে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কেন আলাদা আচরণ করবে?—বলেন একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক বিশ্লেষক।

প্রতিবেশী প্রথম নীতি, তবে অন্য সম্পর্ককে উপেক্ষা করে নয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ঢাকা তার নিকটতম প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ককে কতটা মূল্যায়ন করে। ইতিহাস, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের একটি অপরিহার্য অংশীদার।

তবে সরকারি সূত্রগুলো বারবার স্পষ্ট করেছে যে, নয়া দিল্লিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের সাথে সম্পর্ক সীমিত করবে। একই সাথে, বাংলাদেশ চীনের সাথে তার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করছে, যা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ঐতিহাসিকভাবেই একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে।

সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়

ঢাকার কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের মূল ভিত্তি হলো জাতির পিতা নির্দেশিত ঐতিহাসিক নীতি: সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি কোনো ভূ-রাজনৈতিক পক্ষ নেওয়ার বিষয় নয়; বরং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়া ও চীনের সাথে জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, কিংবা ভারতের সাথে নিবিড় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ অনুসরণ করছে। আজকের এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে ঢাকার বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট: কূটনীতি মানে বিচ্ছিন্নতা বা দলদলি নয়, কূটনীতি মানে দেশের মানুষের জন্য সেরা ফলাফল নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: