শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ : ট্রাম্পকে আটকাতে মার্কিন পার্লামেন্টে রেজল্যুশন পাস

ইরান যুদ্ধ : ট্রাম্পকে আটকাতে মার্কিন পার্লামেন্টে রেজল্যুশন পাস

সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধ থামানোর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করতে একটি রেজল্যুশন পাস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি রেজল্যুশন সংক্রান্ত বিলটি এমপিদের ভোটের জন্য উত্থাপন করেছিল।

বিলটিতে উল্লেখ আছে, ইরান যুদ্ধের জন্য যেসব মার্কিন সেনা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে— তাদের এই অবস্থান অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদনের আগ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের জন্য মোতায়েনকৃত সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে আনতে হবে।

ভোটপর্ব শেষে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের ২১৫ জন এমপি বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২০৮ জন এমপি। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির ৪ জন এমপিও।

কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে যদিও রিপাবলিকান পার্টির এমপিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ; কিন্তু তা সামান্য। বস্তুতঃ ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কংগ্রেসে এমন একটি রেজল্যুশন পাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় একটি ধাক্কা।

আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো— রেজল্যুশনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর এটি এখন যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে এই রেজল্যুশন নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক পর্ব শেষে ভোট হবে। সেই ভোটেও যদি রেজল্যুশনটি পাস হয়— তখন সেটি কার্যকর হবে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তারপর টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও সেই বিরতি চলছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করা; কিন্তু বিরতির পর প্রায় ২ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের হিসেব অনুযায়ী, যুদ্ধের যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১ হাজার ১৩০ কোটি (১১.৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে সর্বনিম্ন ৮৯ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ডলার।

প্রতিনিধি পরিষদের এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লেখ আছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না। ইরান যুদ্ধ ঘোষণার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে এ ইস্যুতে কোনো প্রকার আলোচনাই করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।”

সূত্র : রয়টার্স

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: