বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অসম সময়ের সমাজ

অসম সময়ের সমাজ

সংগৃহীত

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতাকে বোঝার জন্য সবচেয়ে নির্ভুল দৃষ্টিভঙ্গি হলো পরিবর্তনের গতি বিশ্লেষণ। কিন্তু এই পরিবর্তনকে শুধু গতির প্রশ্ন হিসেবে দেখলে বাস্তবতার বড় এক অংশ অনুপস্থিত থেকে যায়।

যা ঘটছে তা আসলে কাঠামোগত অসমতা। যেখানে প্রযুক্তি, যোগাযোগ, তথ্যপ্রবাহ এবং জীবনযাত্রার রূপান্তর ঘটছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে, অথচ সেই পরিবর্তনকে ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো একই গতিতে বিকশিত হচ্ছে না।

এই ব্যবধান কোনো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ নয়, এটা প্রতিদিনের জীবনের ভেতরেই দৃশ্যমান বাস্তবতা। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্তরে এই অসমতা ক্রমশ গভীর হচ্ছে। একদিকে মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত, বেশি তথ্যপ্রবাহে যুক্ত এবং বেশি গতিশীল।

অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে এখনো আগের যুগের যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক রূপান্তর কার্যকর হচ্ছে।

পরিবর্তনের গতির সঙ্গে কাঠামোর অসমতা

বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় পরিবর্তন কোনো ধীর, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নয়, এটা এখন উচ্চগতির, প্রায় অবিরাম একটি প্রবাহ। প্রযুক্তি, যোগাযোগ, তথ্যপ্রবাহ এবং জীবনযাপনের ধরন একসঙ্গে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের বিপরীতে যে কাঠামোগুলো সমাজকে স্থিতিশীল রাখে-প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, এমনকি পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্ক-সেগুলোর অভিযোজনের গতি তুলনামূলকভাবে অনেক ধীর।

এই দুই গতির পার্থক্যই তৈরি করছে মূল অসমতা। একদিকে ব্যক্তি ও প্রযুক্তি দ্রুত নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান সেই বাস্তবতাকে ধারণ করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে সময় নিচ্ছে। ফলে সমাজে এক ধরনের মধ্যবর্তী অবস্থা তৈরি হচ্ছে, যেখানে পুরোনো কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর নয়, আবার নতুন কাঠামোও সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এই অবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর দৈনন্দিন প্রভাব। মানুষ একদিকে ডিজিটাল গতি, তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের বাস্তবতায় অভ্যস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে একই মানুষকে ধীর, স্তরভিত্তিক এবং কাগজনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই দ্বৈত অভিজ্ঞতা কেবল অস্বস্তি নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আস্থার ওপরও চাপ তৈরি করছে।

ফলে পরিবর্তনের সমস্যা এখানে পরিবর্তনের পরিমাণ নয়, বরং পরিবর্তন এবং কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। একটি সমাজ কত দ্রুত বদলাচ্ছে তা নয়, বরং সেই বদলকে ধারণ করার প্রতিষ্ঠান কতটা দ্রুত অভিযোজিত হচ্ছে-এই পার্থক্যই আসল অসমতা তৈরি করছে।

ধীর যোগাযোগ থেকে তাৎক্ষণিক বাস্তবতার দিকে সমাজের স্থানান্তর

এক সময় এই সমাজ ছিল ধীরগতির। যোগাযোগ ছিল সীমিত, তথ্য ছিল দুষ্প্রাপ্য এবং সামাজিক পরিবর্তন ঘটত প্রজন্মান্তরে। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা বা এরকম কোনো বিদেশে পাঠানো একটি চিঠি পৌঁছাতে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগত এবং সেই চিঠির উত্তর আসতে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতো। এই ধীর যোগাযোগ কেবল প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল না, এটা একটি মানসিক ও সামাজিক কাঠামো তৈরি করেছিল, যেখানে অপেক্ষা ছিল স্বাভাবিক এবং সম্পর্ক ছিল সময়নির্ভর।

আজকের বাংলাদেশে সেই সময় কাঠামো সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। যোগাযোগ এখন তাৎক্ষণিক, তথ্য এখন সর্বব্যাপী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন মুহূর্ত নির্ভর। স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সমাজকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে সময় নিজেই সংকুচিত হয়ে গেছে। ছয় সপ্তাহ বা তারও বেশি সময়ের যোগাযোগ এখন সম্ভব ন্যানো বা অ্যাটো সেকেন্ডে। মানুষ এখন দীর্ঘ অপেক্ষার সঙ্গে অভ্যস্ত  নয়, বরং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এখন সামাজিক আচরণের অংশ হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তনের ফলে কেবল প্রযুক্তি নয়, মানুষের মনস্তত্ত্বও মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ধৈর্যের ধারণা দুর্বল হয়ে গেছে, প্রতিক্রিয়ার গতি বেড়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাপ অনেক বেশি তাৎক্ষণিক হয়ে উঠেছে।

তথ্যের প্রাচুর্য এবং সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা

একসময় তথ্য ছিল সীমিত এবং কাঠামোবদ্ধ। জ্ঞান অর্জনের জন্য বই, শিক্ষক এবং অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হতো। তথ্য ছিল একটি সংগ্রহযোগ্য সম্পদ, যার জন্য সময় ও শ্রম প্রয়োজন হতো।

এক প্রজন্ম বড় হয়েছে ধীর, স্থিতিশীল এবং পূর্বানুমানযোগ্য সামাজিক কাঠামোর মধ্যে। অন্য প্রজন্ম বড় হচ্ছে দ্রুত পরিবর্তনশীল, বৈশ্বিক এবং ডিজিটাল বাস্তবতায়। ফলে একই ঘটনা দুই প্রজন্মের কাছে দুই ভিন্ন অর্থ বহন করে। একজন যেখানে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা খোঁজেন, অন্যজন সেখানে পরিবর্তন ও গতিশীলতাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।

বর্তমানে সেই বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তথ্য এখন প্রায় সীমাহীনভাবে সহজলভ্য। সার্চ ইঞ্জিন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন আর কোনো বাধা নয়, বরং চ্যালেঞ্জ হলো কোন তথ্যটি গ্রহণযোগ্য, প্রাসঙ্গিক এবং নির্ভরযোগ্য তা নির্ধারণ করা।

এই তথ্যের অতিপ্রবাহ একটি নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে, যেখানে জ্ঞান অর্জন সহজ হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্রমশ বেশি অনিশ্চিত এবং মানসিকভাবে চাপপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই প্রশ্নের জন্য একাধিক ব্যাখ্যা, একাধিক ব্যাখ্যার মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ এবং তথ্যের অনির্ভরযোগ্যতা মানুষের চিন্তার কাঠামোকে জটিল করে তুলেছে।

একই সমাজে একাধিক সময়ের সহাবস্থান

বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এখন সময়ের ভিন্নতা। একই পরিবারে, একই সমাজে এবং একই কর্মপরিবেশে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বসবাস করছে।

এক প্রজন্ম বড় হয়েছে ধীর, স্থিতিশীল এবং পূর্বানুমানযোগ্য সামাজিক কাঠামোর মধ্যে। অন্য প্রজন্ম বড় হচ্ছে দ্রুত পরিবর্তনশীল, বৈশ্বিক এবং ডিজিটাল বাস্তবতায়। ফলে একই ঘটনা দুই প্রজন্মের কাছে দুই ভিন্ন অর্থ বহন করে। একজন যেখানে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা খোঁজেন, অন্যজন সেখানে পরিবর্তন ও গতিশীলতাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।

এই ভিন্নতাকে কেবল সাংস্কৃতিক বিরোধ হিসেবে দেখলে তা বাস্তবতার সরলীকরণ হবে। এটা আদতে বাস্তবতা বোঝার কাঠামোগত পার্থক্য, যেখানে একই সমাজে একাধিক সময় একসঙ্গে সক্রিয়।

পারিবারিক কাঠামোর রূপান্তর এবং নিরাপত্তার স্থানান্তর

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যৌথ পরিবার কেবল বসবাসের কাঠামো ছিল না, এটা ছিল একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেখানে প্রবীণরা ছিলেন অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত এবং স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। বার্ধক্যের নিরাপত্তা রাষ্ট্র নয়, পরিবার নিশ্চিত করত।

কিন্তু নগরায়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে অন্ধভাবে অনুকরণের কারণে সেই কাঠামো ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন পরিবার আর একক ভৌগোলিক ইউনিট নয়। বরং পরিবার এখন একটি বিচ্ছিন্ন তবে সংযুক্ত সামাজিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। সন্তানরা কর্মসংস্থান ও শিক্ষার কারণে বিভিন্ন শহর বা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। ফলে দৈনন্দিন সহাবস্থান কমে গেছে।

এই পরিবর্তনের ফলে প্রবীণদের জন্য যে অপ্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো ছিল, তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো এখনো সেই শূন্যতা পূরণের মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই পারিবারিক কাঠামো খাপছাড়া অবস্থায় চলে গেছে। পরিবারের প্রধানরা যেখানে পরিবারের ভরকেন্দ্র হিসেবে অবস্থান করছিলেন, তিনিই এখন পারিবারিক সম্পর্কে আলগা অবস্থানে চলে গেছেন।  

প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং অনির্মিত সামাজিক নিরাপত্তার বাস্তবতা

বিশ্ব জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা United Nations Population Fund এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত বার্ধক্যজনিত জনমিতিক পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর অর্থ হলো ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেই অনুপাতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে রাষ্ট্র ও সমাজে একটি বড় কাঠামোগত চাপ তৈরি হবে।

বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থা সীমিত, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে এবং সামাজিক যত্নের অবকাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। অন্যদিকে পরিবারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা আগের মতো শক্তিশালী নয়। ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদাপন্ন অবস্থানে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের অসম গতির টানাপোড়েন

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতাকে বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গতির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা। প্রযুক্তি এগোচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে, তরুণ প্রজন্ম বৈশ্বিক গতিতে এগোচ্ছে, কিন্তু সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে।

বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থা সীমিত, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে এবং সামাজিক যত্নের অবকাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। অন্যদিকে পরিবারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা আগের মতো শক্তিশালী নয়। ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদাপন্ন অবস্থানে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

এই তিনটি গতির মধ্যে ব্যবধান তৈরি করছে কাঠামোগত টানাপোড়েন। এটা পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে সমাজ এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতায় বসবাস করছে। যেখানে পুরোনো কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে যায়নি, আবার নতুন কাঠামোও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এই অবস্থায় সামাজিক আচরণও দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছে। একদিকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিস্তার, অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য পুরনো কাঠামোর ওপর নির্ভরতা- এই দুই প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করছে।

অসম্পূর্ণ আধুনিকতার কাঠামোগত বাস্তবতা

বাংলাদেশ এখন অসম্পূর্ণ আধুনিকতার পর্যায়ে অবস্থান করছে। এখানে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈশ্বিক সংযোগ এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের বিস্তার ঘটছে দ্রুত, কিন্তু সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এই অবস্থার ফলে সমাজ এক অস্থির ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দ্রুত পরিবর্তন, অন্যদিকে ধীর অভিযোজন। এই দুইয়ের মধ্যকার ব্যবধানই বাংলাদেশের সামাজিক ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এটা কোনো সাংস্কৃতিক সংকট নয়, আবার কেবল প্রজন্মগত পার্থক্যও নয়। এটা মূলত কাঠামোগত বিলম্ব, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তর একই গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে না।

পরিবর্তনের গতি নয়, অভিযোজনের সক্ষমতাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তনের অভাব নয়, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের সক্ষমতার ঘাটতি। পরিবর্তন অনিবার্য এবং তা ইতিমধ্যেই ঘটছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে ধারণ করার মতো প্রতিষ্ঠান, নীতি এবং সামাজিক কাঠামো যদি সমানভাবে বিকশিত না হয়, তবে এই অসম রূপান্তর দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সামাজিক চাপ তৈরি করবে।

জীবন মানে পরিবর্তন। কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরে থাকা অর্থহীন। আজ যা হারিয়ে গেল মনে হচ্ছে, আগামীকাল হয়তো তার চেয়েও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। তাই যা চলে যাচ্ছে তার জন্য দুঃখ না করে, আগামীর অজানাকে বরণ করে নেওয়াই হলো প্রকৃত জীবন।

তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি পরিবর্তনের গতির দিকে নির্দেশ করে না, বরং সেই গতিকে ধারণ করার সক্ষমতার সামর্থ্যের কথা বলে। একটি সমাজ কত দ্রুত বদলাচ্ছে তা নয়, বরং সেই পরিবর্তনকে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা সুসংগঠিতভাবে ধারণ করতে পারছে- সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের স্থিতি।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: