বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বগুড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

বগুড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে বগুড়ায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে দিন-রাত কাজ করছেন শিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ৭৩০টি পূজামণ্ডপের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ছয় দিনের এ উৎসব শেষ হবে। এ বছর দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা। কেউ কাদামাটির শেষ প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন। শিল্পীদের নিপুণতায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

কারখানাটির স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, এ বছর বগুড়া সদর ও আশপাশের উপজেলা ছাড়াও জামালপুর ও নওগাঁ থেকে ২০টি প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় অর্ডার কমেছে। নিত্যপণ্যের পাশাপাশি কাঁচামাল ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি প্রতিমা সেট ২৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের গেট, প্যান্ডেল, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গত বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৬৮১টি। অর্থাৎ এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, উৎসব ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তাকর্মী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার ১৩টি উপজেলার ৭৩০টি পূজামণ্ডপের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে এ চাল দেওয়া হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সমবেত ভক্তদের আহার্য ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত সরকারি পত্রে এ চাল বরাদ্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, বগুড়া সদরে ১২১টি মণ্ডপের জন্য ৭২ দশমিক ৬০০ মেট্রিক টন, শেরপুরে ৯৪টি মণ্ডপে ৫৬ দশমিক ৪০০, আদমদীঘিতে ৬৯টি মণ্ডপে ৪১ দশমিক ৪০০, গাবতলীতে ৬৮টি মণ্ডপে ৪০ দশমিক ৮০০, সোনাতলায় ৫৪টি মণ্ডপে ৩২ দশমিক ৪০০, ধুনটে ৩৫টি মণ্ডপে ২১, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি মণ্ডপে ২৭, নন্দীগ্রামে ৪৮টি মণ্ডপে ২৮ দশমিক ৮০০, শাজাহানপুরে ৪৮টি মণ্ডপে ২৮ দশমিক ৮০০, কাহালুতে ৪০টি মণ্ডপে ২৪, শিবগঞ্জে ৩৯টি মণ্ডপে ২৩ দশমিক ৪০০, সারিয়াকান্দিতে ২৮টি মণ্ডপে ১৬ দশমিক ৮০০ এবং মোকামতলায় ২৫টি মণ্ডপের জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং ভক্তদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি বিধি অনুযায়ী এ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, পূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

প্রতিমার শেষ আঁচড়, মণ্ডপে সাজসজ্জা আর প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে এখন উৎসবের অপেক্ষা বগুড়াজুড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও আরাধনায় মুখর হয়ে উঠবে জেলার পূজামণ্ডপগুলো।

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: