• শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯

  • || ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

কাহালুতে সরিষা ক্ষেত থেকে মৌ-চাষীদের মধু সংগ্রহ

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২২  

শীতের মৌসুমে লকলকে গাছের আগা। আগায় আগায় কুঁড়ি মেলেছে ফুলের। সরিষা খেতে হলদে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন। মধু আহরনে বিভিন্ন প্রজাতি মৌমাছির গুণ গুণ শব্দে যেন সঙ্গীতের আবহ।বগুড়ার কাহালু উপজেলায় মৌচাষি নেই বললেই চলে। তারপরেও শীত মৌসুমে এখানে নেই মৌচাষির অভাব। দুর দুরান্ত থেকে মৌচাষিরা এখানে এস তাবু গেড়েছে মাঠে বিভিন্ন মাঠে।

সরিষা খেতের পাশে পাশে মৌচাকের বাক্স বিছিয়েছে তারা অধিকাংশ মাঠে। বিভিন্ন মাঠে লক্ষ করলেই চোখে পড়বে সাড়ি সাড়ি মৌচাকের বাক্স।লকলকে গাছের আগায় ও ফুলের কুঁড়িতে বসে মৌমাছিরা মধু আহরন করে সাড়ি সাড়ি বাক্সে রাখা মৌচাকে সঞ্চয় করছে মধু। মৌমাছিদের সঞ্চয় করা মধু ডাম ভর্তি করে এখান থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন মৌচাষিরা। কেউ বিসিকে চাকুরীর পাশাপাশি আবার কেউ বিসিকের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ খামারে মৌচাষ করছেন।

সিজিন বুঝে তারা প্রায় সারা বছরই বছরের বেশিরভাগ বিভিন্ন অঞ্চলে মৌচাকের বাক্স নিয়ে গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন।যখন যে অঞ্চলে মধু পাওয়া যায়, ঠিক সেই মোতাবেক তারা ওই অঞ্চলে গিয়ে সরিষা ফুলের খেতের পাশে, কালোজিরার ক্ষেত্রের পাশে, ফুল বাগানের পাশে, আম বাগানে, গিয়ে মৌচাকের বাক্স বিছিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। মৌচাষিদের মতে তারা বেশীরভাগ সময় বনাঞ্চলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

আবার রবিশষ্য মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠে গিয়ে মৌচাকের বাক্স বিছিয়ে মধু সংগ্রহ করেন।চলতি রবিশষ্য মৌসুমে সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মৌচাষিরা এখানে মাঠে মাঠে তাবু গেড়ে তাদের চাষ করা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। গতকাল বুধবার কাহালু উপজেলার,বিনোদ,সারাই,শিকড়,কাজিপাড়া,উলট্ট এলাকায় ঘুড়ে মৌচাষিদের মুখে শুনে পাওয়া গেছে তারা একক মৌসুমে একেক জায়গায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। তাদের মতে প্রতি সপ্তাহে একজন মৌচাষি ৩ থেকে ৫ মনের বেশি সংগ্রহ করতে পারেন।

বিনোদ মাঠে ১৮০ টি মৌচাকের বাক্স বিছিয়ে রেখেছেন সরিষা খেতের পাশে।একেকটি বাক্সে রয়েছে ২/৩ টি করে মৌচাক। যিনি এখানে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন তিনি সিরাজগঞ্জ বিসিকে কর্মচারী মিজানুর রহমান। তিনি এই ব্যবসা মূলত পরিচালনা করছেন তার ভাতিজা রাজু আহম্মেদকে দিয়ে। রাজু আহম্মেদ মৌসুম বুঝে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন।প্রতি শুক্রবার এসে তার চাচা মিজানুর রহমান এসে শুধু হিসেব নিকেশ করে আবার চলে যান। এভাবে প্রায় সারা বছরই মৌমাছি দিয়ে তাদের মধু সংগ্রহের কাজ চলে ।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া