• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বগুড়ায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ‘আলোর দিশারী’

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২  

বগুড়া এডওয়ার্ড পৌর পার্কে ঢুকে দেখা গেল অন্যরকম এক দৃশ্য। মাটিতে বিছানা পেড়ে বসে আছে কিছু শিশু। তাদের পড়াচ্ছেন কয়েকজন তরুণ। শিক্ষার্থী হিসেবে যারা বসে আছে তাদের কেউ টোকাই, কেউবা ফুল বিক্রি করে। কাজের ফাঁকেই পড়ছে তারা। 

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান কাজটি করছে ‘আলোর দিশারী পরিবার’ নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২০১৪ সাল থেকেই এই পার্কে শিশুদের পাঠদান করে আসছে তারা। বিনিময়ে কোনো অর্থ নেন না। মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে আলোর দিশারী পরিবারের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬০ জন।

এখানে পড়তে আসা শিশুরা একসময় ময়লার ভাগাড় বা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতো। এসব শিশুদের বই, খাতা, কলম সহ বিভিন্ন সহযোগিতা এই সংগঠন থেকেই করা হয়। সমাজের অন্য শিশুদের মতো সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পারে সেই লক্ষ্যই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এসব শিশুদের আর দশজন শিশুদের মতো গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তারা। তাদের প্রত্যাশা এসব শিশুরাও একদিন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। 

শিশুরাও পড়ার এমন সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘এখানকার স্যার, ম্যাডামরা আমাদের খুব ভালোবাসেন। মাঝে মাঝে আমাদের নাস্তাও খেতে দেন।’

আলোর দিশারীর নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের পরিবারে অর্থের সমস্যা থাকায় খাতা, কলম ইত্যাদি কিনতে অসুবিধা হতো। এখান থেকে আমাদের সেগুলো দেওয়া হয়। তারা বিভিন্নভাবে সাহায্যও করে আমাদের।’

সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের শিক্ষা দান করতে পেরে শিক্ষকরা আনন্দিত। আলোর দিশারীর এক শিক্ষিকা শুভ্রা সাহা বলেন, ‘আমরা এসব শিশুদের নিয়ে খেলাধুলা, নাচ-গান সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে থাকি। এছাড়া প্রতিবছর আমরা এসব শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং পিঠা উৎসব করে থাকি। আর দশজন শিশুদের মতোই স্বাভাবিকভাবে ওদের গড়ে তুলি আমরা।’

আলোর দিশারী পরিবারের কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সহকারী সম্পাদক আদিত্য কুমার জানান, ‘আমাদের এখানে শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাচ্চা আছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীও আছে। এসব শিশুরা আগে কাজ করতো। তারা এখন পড়তে আসছে। এই স্কুলের বাচ্চাদের দেখে বস্তির অনেক বাবা-মা, তাদের বাচ্চাদেরকেও এখন পাঠাচ্ছেন। এটা আমাদের সফলতা।’

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া