• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

সোনাতলায় বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক পলিথিন মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করে বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি পলিথিন মালচিং পদ্ধতি। সবজি জাতীয় ফসলের জমিতে শুকনো বা কাঁচা পাতা,বিচালি, কচুরিপানা বিছিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে বা মালচ করে এধরনের চাষাবাদ করা হয়। এটি সবজি জাতীয় ফসল বিশেষ করে মরিচ, টমেটো,স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের সবজি চাষের বিজ্ঞাননির্ভর একটি আধুনিক চাষ পদ্ধতি।

এ ফসল আবাদে ২৫ শতাংশ সেচ কম লাগে। এতে সারের ব্যবহার অত্যন্ত কম। এ পদ্ধতির ফসলে পোকামাকড় হয়না বললেই চলে, ফসলে আগাছা হয় না,ভাইরাস আক্রমণ করে না। বিষমুক্ত উচ্চমূল্যের ফসলের জন্য খুব উপযোগী এ মালচিং পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে উৎপাদনও অনেক বেশি হয়, কৃষক লাভবান হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় এ পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু হয়েছে। উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের হুয়াকুয়া গ্রামে কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম ২৫ শতক জমিতে পলিথিন মালচিং পদ্ধতিতে মরিচের চাষাবাদ শুরু করেছেন। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোনাতলায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন এ কৃষি পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন সোনাতলার হুয়াকুয়া গ্রামে ভিড় করছে অন্যান্য এলাকার কৃষকসহ সোনাতলার কৃষকেরা। সরেজমিনে হুয়াকুয়া গ্রামের ওই আধুনিক পলিথিন মালচিং পদ্ধতির জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, জমিতে প্রয়োজনীয় উপাদান বিছিয়ে উপরে সিলভার রঙ এবং ভিতরে কালো রঙের বিশেষ ওই পলিথিন বিছিয়ে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মরিচের বেড। ওইসব বেডে নির্দিষ্ট দুরত্বে পলিথিন ফুটো করে রোপন করা হয়েছে মরিচের চারা। বেড়ে ওঠা মরিচের চারাগুলোকেও বেশ সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখা গেছে।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সোহরাব হোসেনের সাথে আধুনিক পলিথিন মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘পরিবেশবান্ধব আধুনিক পলিথিন মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকের খরচ খুব কম হয়। এ পদ্ধতির ফসল হয় বিষমুক্ত। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড় আক্রমণ করে না। এই পদ্ধতির ফসল উৎপাদনও হয় অনেক বেশি। সোনাতলায় শুরু হওয়া মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ দেখে কৃষকেরা আশাবাদী ও উৎসাহী হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি। আশাকরি, আগামী দিনগুলোতে এ প্রযুক্তির চাষাবাদ বাড়বে, পাশাপাশি বাড়বে ফসলের উৎপাদন।’

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া