সংগৃহীত
ভোলায় এবার ১১২টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়। মণ্ডপগুলোতেও চলছে সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে মণ্ডপ উন্নয়নের জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১১২টি মণ্ডপের জন্য মোট ৬৭ দশমিক ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোয় নেওয়া হবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি জেলার সাত উপজেলায় নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে। মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ভোলা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা বলেন, ‘এবার জেলার ১১২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিমাগুলোতে রংতুলির কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ, কোস্টগার্ড ও র্যাব নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এরই মধ্যে পুলিশের টিম বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন ও তদারকি করছে। পূজার আগ মুহূর্ত থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।’
এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের নিজস্ব কমিটির অধীনে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে জেলার সব মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
অসীম কুমার সাহা আরও বলেন, ‘পূজা যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক থাকবে। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক ডা. মো. শামীম রহমান বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে মোট ৬৭ দশমিক ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই সভা আহ্বান করা হবে। সেখানে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সূত্র: কালবেলা



















