শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

নারী সালাম দিলে উত্তর দেওয়া জরুরি?

নারী সালাম দিলে উত্তর দেওয়া জরুরি?

সংগৃহীত

সালাম ইসলামে সর্বোত্তম ও একমাত্র অভিবাদন। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ববোধ, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা জাগ্রত করে সালাম। দূর করে মানব-মনের অহংকার, হিংসা বিদ্বেষ। ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। সালাম দেওয়া-নেওয়া নবী-রাসুলদের সুন্নত। সালাম না দেয়া কৃপণতা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সবচেয়ে বড় কৃপণ। যে ব্যক্তি দোয়া করার ব্যাপারে অক্ষম, সে সবচেয়ে অক্ষম।’ (আল আদাবুল মুফরাদ: ১০৪২)

তবে, গায়রে মাহরাম নারীদের সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে সালাম আদান প্রদান করা যাবে না। যেমন, পথে চলাচল করা অবস্থায় তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না। তেমনি তারা সালাম দিলে তার উত্তর শুনিয়ে দেওয়া যাবে না। হ্যাঁ, কোনো প্রয়োজনে কথা বলতে হলে পর্দা রক্ষা করে কথা বলবে এবং এক্ষেত্রে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করাটাই উত্তম। এমনিভাবে মোবাইলে কথা বলার সময়ও সালাম আদান প্রদান করা যাবে। আর মাহরাম নারীদের সঙ্গে সর্বাবস্থায় সালাম আদান প্রদান করা যাবে। (তথ্যসূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৬৩০০; মিরকাতুল মাফাতিহ: ৮/৪৬৮; ফাতহুল বারি: ১১/৩৪ পৃ.; আননাহরুল ফায়েক ১/২৭১; রদ্দুল মুখতার: ১/৬১৬)

আবার ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে যেকোনো নারী-পুরুষ পরস্পর সালাম বিনিময় করতে পারে। যেমন- বৃদ্ধা মহিলাকে কিংবা নারীরা কোনো বৃদ্ধ পুরুষকে ফেতনার আশংকা না থাকলে সালাম দিতে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। আবু হাশেম থেকে বর্ণিত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেছেন, জুমার দিন আমরা খুশি হতাম। (আবু হাশেম বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তিনি বললেন, আমাদের এখানে এক বৃদ্ধা ছিল। সেই বৃদ্ধা এক প্রকার সবজির শেকড় তুলে পাতিলে রাখত এবং যবের কয়েকটি দানা তাতে ঢেলে দিয়ে খাবার তৈরি করত। আমরা জুমার সালাত শেষ করে ওই বৃদ্ধার নিকট যেতাম এবং তাকে সালাম করতাম।’ (বুখারি: ২৩৪৯)

আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একদল মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদেরকে সালাম করলেন (আবু দাউদ: ৫২০; তিরমিজি: ২৬৯৮, মেশকাত: ৪০০)

উপরোক্ত হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, ফেতনার ভয় না থাকলে মহিলা ও পুরুষ একে অপরকে সালাম দিতে পারে। আর সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসে সালামের উত্তম জবাব দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ আসসালামু আলাইকুম বললে, উত্তরে ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলা উচিত। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত, খণ্ড ১২, ৯৩)

অনেকে অপছন্দের মানুষ সালাম দিলে উত্তর দেয় না। এটি সুন্নাহপরিপন্থী কাজ। অপছন্দনীয় ব্যক্তির সালামের উত্তর দেওয়াও ওয়াজিব। অনেক সময় কেউ কেউ সালামের উত্তর দিয়ে আবার সালাম দেন। এমনটা করাও উচিত নয়। কারণ, উত্তম হলো, ব্যক্তি আগে সালাম দেবে। কিন্তু কেউ যদি সালাম দিয়ে ফেলে তবে শুধু সালামের উত্তর দেওয়াই দায়িত্ব। পুনরায় সালাম দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।

কখনও  দুইজন ব্যক্তি একে অপরকে একসঙ্গে সালাম দিয়ে ফেললে প্রত্যেকের ওপর অপরের সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি আগে-পরে হয়ে যায় তা হলে পরে যে সালাম দেওয়া হয়েছে তা আগের সালামের জবাব হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে পরে সালাম দিলে কারও জন্যই পুনরায় জবাব দেওয়া আবশ্যক হবে না। (ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১৮/৭৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩৩৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৪১৬; মিরকাতুল মাফাতিহ: ৮/৪৬৭)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সালামের বিধানসহ সব বিষয়ে ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্র: Dhaka Mail

সর্বশেষ: