শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতীরা কিছু খেতে পারবে কি-না?

চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতীরা কিছু খেতে পারবে কি-না?

সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হয়ে গেল গত ২৫ মার্চ (সোমবার)। বরাবরের মতো সেদিনও আমাদের সমাজের গর্ভবতী প্রায় অনেক নারীই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন!

আবার আমাদের সমাজে এও দেখা যায় যে, চন্দ্রগ্রহণের বেশ কিছু দিন আগে থেকে প্রায় অনেক গর্ভবতী ক্যালেন্ডারে দাগ দিতে থাকেন। কারণ, ঐদিন তাদের নাকি অনেক কিছুই নিষেধ। এরকম অনেক ভ্রান্ত ধারণা আমাদের চারপাশে ঘুরতে থাকে।

আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা কিছু খেতে পারবে না। এ সময় তারা মাছ, তরিতরকারি বা এজাতীয় কোনো কিছু কাটাকাটিও করতে পারবে না। এ সময় কিছু খেলে কিংবা কাটাকাটি করলে গর্ভস্থ সন্তানের বিকলাঙ্গ হওয়ার অথবা যেকোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

এ ২টি ধারণাই অমূলক ও কুসংস্কার। ইসলামি শরিয়তে এমন বিশ্বাসের কোনো সুযোগ নেই।

ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের মানুষের বিশ্বাস ছিল, জগতের বৃহৎ কোনো পরিবর্তনের কারণে চাঁদ এবং সূর্যের গ্রহণ লাগে। যেমন বড় কারো জন্ম, মৃত্যু কিংবা দুর্ভিক্ষের আগমন ইত্যাদির কারণে প্রকৃতিতে এমন ঘটে।

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ভুল বিশ্বাস খন্ডন করে বলেন, ‘সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে হয় না, এগুলো আল্লাহর নিদর্শনাবলির ২টি নিদর্শন মাত্র। যখন তোমরা তা (সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ) দেখবে তখন নামাজে নিমগ্ন হবে’। (বুখারি শরিফ, হাদিস: ১০৪২, মুসলিম শরিফ, হাদিস: ৯১৪)

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় কী করা উচিৎ, এ ব্যাপারে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হলো। তখন তিনি লম্বা কেরাত ও লম্বা রুকু-সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করলেন। অতপর: বললেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলির ২টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। যখন তোমরা তা দেখবে তখন বেশি বেশি আল্লাহকে ডাকবে (দোয়া করবে), বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, নামাজ পড়বে এবং সদকা করবে’। (বুখারি শরিফ, হাদিস: ১০৪৪)

চন্দ্রগ্রহণ বা খুসুফের নামাজের নিয়ম সময়

কুসুফ ও খুসুফ শুরু হওয়া থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নামাজের সময়। মুসল্লি তার নামাজ পূর্ণ করে নেবে যদিও কুসুফ ও খুসুফ অতিক্রান্ত হয়ে যায়। আর যদি নামাজ পড়ে শেষ করা হয়, কিন্তু কুসুফ ও খুসুফ বলবৎ থাকে তাহলে আবার নামাজ আদায়ের প্রয়োজন নেই। বরং দোয়া ও ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকলেই চলবে।

চন্দ্রগ্রহণের নামাজ সুন্নত। কেননা প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন চন্দ্র-সূর্যের আলো নিষ্প্রভ হতে দেখবে তখন নামাজ আদায় কর। (বুখারি ও মুসলিম)

এমনিভাবে প্রত্যেক ভীতিকর অবস্থাতে যেমন- প্রবল বাতাস প্রবাহকালে, অতিবৃষ্টি, গাঢ় অন্ধকার ইত্যাদি সময়ে নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। চন্দ্র গ্রহণের নামাজ কারো কারো মতে, সূর্য গ্রহণের নামাজের অনুরূপ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, যেহেতু এ নামাজ রাত্রিকালীন তাই ঘরে একাকী আদায় করা উত্তম। (বাদায়েউস সানায়ে)

অন্যান্য নফল নামাজের মতো ২ বা ৪ রাকাত নামাজ দীর্ঘ কেরাত, রুকু ও সেজদার মাধ্যমে আদায় করবে এবং নামাজ শেষে কায়মনোবাক্যে দোয়া ও ইস্তেগফার পড়বে। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, ‘নবী (সা.) সূর্য গ্রহণের নামাজ শেষে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এসব নিদর্শন পাঠিয়ে মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করেন। সুতরাং তখন তোমরা দোয়া, ইস্তেগফার এবং জিকির-আজকারে রত থাক’। (বোখারি ও মুসলিম)

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ: