• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

ইতিহাসের হাতছানি বাংলাদেশ-নেপালের সামনে

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

শেষ মঞ্চে দাঁড়িয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ষষ্ঠ আসর। মঙ্গলবার বিকেলে নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফয়সালা হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই টুর্নামেন্টে নতুন চ্যাম্পিয়ন হয় কারা? বাংলাদেশ বা নেপাল- যারা জিতবে তারাই প্রথমবারের মতো মাথায় পরবে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৫টায় বাংলাদেশ-নেপালের ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৩ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট। নারী সাফের আগের ৫ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত নেই। দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী এই দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে স্বাগতিক নেপাল।

সেমিফাইনালে নেপাল ১-০ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। অন্যদিকে গ্রুপপর্বে ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তাই মোটা দাগে বলে দেওয়া যায় এবারের আসরের সেরা দুই দলই ফাইনালমঞ্চে। দুই দলের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি।

ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ ও নেপাল- এখনও কোনো গোল হজম করেনি। বাংলাদেশ চার ম্যাচে গোল দিয়েছে ২০টি, নেপাল ৩ ম্যাচে দিয়েছে ১১টি। বাংলাদেশ ও নেপালের যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক তাদের ভাঙতে হবে প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণ দেওয়াল।

যে ধারায় খেলে দুই দল ফাইনালে উঠেছে তাতে কোন দলকে আগেভাগে ফেভারিট বলে দেওয়ার উপায় নেই। দিনটি যাদের থাকবে তারাই ঘরে তুলে সাফের শিরোপা। নেপালের অন্যতম শক্তি হবে তাদের সমর্থক। এটা ধরেই নেওয়া যায় দশরথ রঙ্গশাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরিয়ে দেবে স্বাগতিক দর্শকরা।

আরেকটি বিষয় হলো নেপালি দর্শকরা গ্যালারিতে চুপচাপ বসে থাকে না। তারা সারাক্ষণ উৎসবের আমেজে দলকে সমর্থন দেয় এবং উৎসাহ যোগায়। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সব ম্যাচই দর্শক অনুকূলে খেলে এসেছে। এই প্রথম খেলতে হবে গ্যালরির প্রতিকূলে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ হতে পারে অন্যতম ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্নার অনুপস্থিতি। তিনি ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের সময় ডান পায়ের মাংসপেশিতে টান পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ১২ মিনিটে। শনিবার পর্যন্ত স্বপ্নার অবস্থা উন্নতির দিকে ছিল। আজ শেষ অনুশীলনে বোঝা যাবে ভারতের বিপক্ষে জোড়া গোল স্বপ্না ফাইনালের একাদশে থাকছেন কি না।

দুই দলের অতীত সাক্ষাতের রেকর্ডও থাকবে নেপালের পক্ষে। আগের ৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ও নেপাল ৩ বার মুখোমুখি হয়েছে। তিনবারই জিতেছে নেপালিরা। দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১০ সালে কক্সবাজারে প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। নেপাল জিতেছিল ৩-০ গোলে।

২০১৪ সালের সেমিফাইনালে নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৯ সালে গ্রুপপর্বে। নেপাল জিতেছিল ৩-০ গোলে। ১৯ সেপ্টেম্বর ফাইনালে বাংলাদেশ জিতলে এক ঠিলে দুই পাখি মারা হবে বাংলাদেশের; নেপালকে প্রথম হারানোর স্বাদের সঙ্গে প্রথম শিরোপা জয়ের উদযাপনও।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া