সংগৃহীত
মাত্র এক রান দরকার ছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারে আরশাদ খানের করা শেষ বল মাঠের বাইরে উড়িয়ে দিলেন বিরাট কোহলি। আহমেদাবাদের লক্ষাধিক দর্শকের বেশির ভাগই ছিলেন বেঙ্গালুরুর সমর্থক। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন তারা। ম্যাচ জয়ের শট মেরেই হেলমেট খুলে ফেললেন কোহলি। দু’দিকে দু’হাত ছড়িয়ে উৎসব করলেন। বেঙ্গালুরুর টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাত হয়ে থাকল এ রকমই রঙিন। ম্যাচের পর কোহলি স্বীকার করেছেন, এবার অতটা চাপ ছিল না তাদের। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, কোনো দিন তার শটে আইপিএল জিতবে। ট্রফিজয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন গোটা দলকে।
রোববার আরসিবি যে জিততে পারে, এটা বোঝা গিয়েছিল গুজরাটের ব্যাটিং দেখেই। ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে গুজরাটের ব্যাটাররা একের পর এক আত্মসমর্পণ করলেন। ফাইনালে জেতার জন্য ১৫৫ রান লড়াকু স্কোর নয়। তবে আইপিএলে অতীতে চারবার এর চেয়েও কম রান করা দল জিতেছে। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা বলেই আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছিল না। তবে কোহলি এবং বেঙ্কটেশ আয়ার মিলে শুরুটা যেভাবে করলেন, ওখানেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। তবুও বেঙ্গালুরু এক সময় পরপর উইকেট হারানোয় চিন্তা একটু হয়েছিল। সেটাও কাটিয়ে দেন কোহলি।
ছয় মারার পরেই বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটাররা হইহই করে ঢুকে পড়েন মাঠে। কিছুটা উৎসব করার পরেই কোহলির উৎসুক চোখ খুঁজতে থাকে স্ত্রী আনুষ্কাকে। দেখতে পাওয়ামাত্রই ছুড়ে দেন তিনটি চুমু। পরে ফোনে কথা বলতেও দেখা গিয়েছে কোহলিকে। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে, স্বপ্ন দেখছি মনে হচ্ছে। অনেকবার এই মুহূর্তটার কল্পনা করেছি যে, আমরা ট্রফি জিতেছি এবং জয়ের শট আমার ব্যাট থেকে এসেছে। আসলে যে দল রয়েছে তাতে যে কোনও সময়েই আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়। ক্রিকেট এখন এমনই হয়ে গিয়েছে যে তরুণ ক্রিকেটাররা প্রতি মুহূর্তে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। প্রতি মুহূর্তে আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।”
তার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে কোহলি বলেন, “আমি ছেলেদের বলেছিলাম, গত বারের মতো চাপ এবার নেই। আমরা জানতাম এই দল কী করতে পারে। আমরা লিগে শীর্ষে শেষ করেছিলাম। কীভাবে খেলেছি সেটা সবাই দেখেছে। আমরা একটাই কথা নিজেদের মধ্যে বলেছিলাম, যদি নিজেদের মতোই ক্রিকেট খেলতে পারি এবং পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি তা হলে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না। এই কারণেই গ্রুপ পর্বে আমরা এত ভাল খেলেছি। তা ছাড়া এই দলের দক্ষতা, মানসিকতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা আজ সকলেই দেখতে পেয়েছে।”
এই দলকে নিয়ে কখনও কি সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সঞ্চালক অ্যারন ফিঞ্চের প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে বিরতির পর আমরা দুটো ম্যাচে ধাক্কা খেয়েছিলাম। একটা ম্যাচ হেরেছিলাম। আর একটায় মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জিতেছিলাম। সেই সপ্তাহটা কঠিন গিয়েছিল আমাদের। কারণ আমরা লিগের শীর্ষে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে জেতার পরেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। তারপর কেকেআরকে সহজে হারাই। শেষ পর্যন্ত লিগেও সবার আগে শেষ করেছি।”
দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিয়ে খুশি। বিশেষ করে গোটা মৌসুমে যেভাবে সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন, সেটাই খুশি করেছে কোহলিকে। বলেছেন, “অসাধারণ খেলেছে গোটা দল। এত বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এই দলটা একত্র হওয়ার পর এখন মাঠে নামলে এটা মনে হয় না যে আমাকেই জেতাতে হবে। আমি জানি যে পেছনে এবং পাশে বাকিরা রয়েছে যারা দলকে জেতাতে পারে। এতগুলো ক্রিকেটার ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছে। হ্যাজলউড, ভুবনেশ্বর, ডাফির মতো বিশ্বসেরা বোলারেরা দলে রয়েছে। ক্রুণালের ওপর বরাবর ভরসা করা যায়। এ বার রাসিখ দার অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটাররাও নিজেদের মতো অবদান রেখেছে। ভারসাম্য থাকা এই দলটার অংশ হতে পেরে খুব খুশি। এখন আমরা অলরাউন্ড দল। তাই জন্যই মাঠে নামলে আলাদা আত্মবিশ্বাস থাকে।”
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

















.webp)


.webp)