• শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৭

  • || ০১ সফর ১৪৪২

৬১

মন থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর করার আমল

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২০  

সব রোগের বড় রোগ মনের দুশ্চিন্তা। কারো মনে দুশ্চিন্তা থাকলে সহজে তা থেকে সেরে ওঠা সম্ভব নয়। রোগ-ব্যাধি কিংবা যে কোনো অসুস্থতা থেকে সুস্থ হতে হলে অবশ্যই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার অন্যতম আমল হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।

হজরত নুহ আলাইহিস সালাম তাঁর জাতিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিবর্ষণ করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।' (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

আল্লাহর কাছে শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করলেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এসব নেয়ামত দান করবেন বলে ঘোষণা দেন। কোনো ব্যক্তির যদি গোনাহ মাফ হয়ে যায়, ফল-ফসলের জন্য বৃষ্টি হয়, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পায়, তবে সে ব্যক্তির আর দুশ্চিন্তা কিসের?

সুতরাং মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাহলেই মানুষ মনের প্রশান্তি লাভ করবে, হালাল রিজিক পাবে, ধার্মিক সন্তান-সন্ততি পাবে, বৃষ্টি পানিতে বাগ-বাগিচা ও নদী-নালা পরিপূর্ণ হবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তাহলে তিনি তোমাদের এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন এবং প্রত্যেক গুণী ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেবেন।' (সুরা হুদ : আয়াত ৩)

এ আয়াতে কারিমায় আল্লাহ তাআলা গুণী ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেবেন বলতে, স্বশরীরে শক্তি, সামর্থ্য, সম্পদ, এমনকি অসহায় মানুষকে সহায়তাদানকারী কিংবা অসুস্থ মানুষকে সেবাদানকারী ব্যক্তির কথা বোঝানো হয়েছে।

এ গুণগুলো লাভের জন্য একটি শর্ত করা হয়েছে। আর তাহলো- আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনরা করা। হাদিসে পাকে এসেছে-
যে ব্যক্তি সব সময় ইসতেগফার করে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দুশ্চিন্তাকে স্বস্তিজনক করে দেন এবং প্রতিটি সমস্যা থেকেও তাকে উদ্ধার করেন।'

হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারির বর্ণনায় এটি 'সাইয়েদুল ইসতেগফার' নামে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। আর তাহলো-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাত্বাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজজুনুবা ইল্লা আংতা।'

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমত আপনার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছেন; তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে এ সময়ে সব রোগ-ব্ধিো, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে মহান আল্লাহর ওপর ভরসার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি, দুর্যোগ ও দুশ্চিন্তা থেকে হেফাজত করতে তার কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর