• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১০৪

সবুজের মাঝে বড় হওয়া শিশুদের ‘আই-কিউ’ বেশি, বলছে গবেষণা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২০  

প্রকৃতির অপরূপ সবুজের মধ্যে থাকতে কে না পছন্দ করে। তবে নগরায়নের কারণে বিশেষ করে রাজধানীর শিশুরা প্রকৃতির দেখা পায় না সচরাচর। আর এ নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ অঞ্চলে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার হার তুলনামূলক বেশি। 

১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৬০০ জন শিশুর ওপর চালানো গবেষণায় দেখা যায়, শিশু বেড়ে ওঠার পরিবেশে ৩ শতাংশ গাছপালা বৃদ্ধি পেলেই তাদের আই-কিউ স্কোর গড়ে ২.৬ নম্বর বৃদ্ধি পায়। ধনী ও দরিদ্র উভয় অঞ্চলেই এই প্রভাব দেখা গেছে। এর স্বপক্ষে এরই মধ্যে অনেক শক্ত প্রমাণ থাকলেও আই-কিউ পরিমাপ করে চালানো এটিই প্রথম গবেষণা। 

এর পেছনের কারণ অনিশ্চিত হলেও ধারণা করা হয়, অপেক্ষাকৃত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, সামাজিক যোগাযোগ, খেলাধুলার সুযোগ থাকা ও কম অবসাদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা এক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। গবেষকরা বলছেন, তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য কিছুটা উন্নতিই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

বেলজিয়ামের হাস্যেল্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিম নাওরোট বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের সঙ্গে আশেপাশের পরিবেশও অনেকটা প্রভাব ফেলে। এই পরীক্ষায় সবুজের মাঝে বেড়ে ওঠা শিশুর আই-কিউ বেশি হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের পরিপূর্ণ দক্ষতা বিকাশে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণে নগর পরিকল্পনাবিদদের সবুজ অঞ্চল গড়ে তোলায় নজর দেয়া উচিত।

প্লস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে সবুজ অঞ্চল পরিমাপ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আই-কিউ পরীক্ষণের গড় নম্বর ছিল ১০৫। দেখা যায়, যেই ৪ শতাংশ শিশু ৮০ নম্বরের কম পেয়েছে তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশে কম সবুজ অঞ্চল ছিল। অন্যদিকে বেশি গাছপালা সমৃদ্ধ সবুজ অঞ্চলে বেড়ে ওঠা কোনো শিশুই ৮০ এর কম নম্বর পায়নি।

তবে মফস্বল বা গ্রামীণ পরিবেশে বড় হওয়া শিশুদের পরীক্ষার ফলাফলে আলাদা কিছু দেখা যায়নি। নাওরোট এর কারণ হিসেবে বলেন, এসব অঞ্চলের শিশুরা সকলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ পরিবেশে বড় হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত বার্সেলোনায় বসবাসরত শিশুদের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, সবুজ অঞ্চলে বেড়ে ওঠার সঙ্গে তাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ দক্ষতার সম্পর্ক আছে। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর