সংগৃহীত
সরকারের কোনো ঘোষণা ছাড়াই, জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর খবরের উৎস কী? তথ্যের সত্যতা কোথায় পেল মূলধারার মিডিয়া?
সম্প্রতি জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সফল সফরকে কেন্দ্র করে দেশের কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজগুলো যেভাবে একটি ভুয়া খবরকে সত্য হিসেবে চালিয়ে দিল, তা আমাদের সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্বকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের প্রচার করা সেই খবরটি ছিল প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেবে জাপান সরকার।
অথচ বড় প্রশ্ন হলো সরকারের কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় বা দপ্তর থেকে কি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে? প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি এমন কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে? যদি না করে থাকে, তবে চ্যানেল ২৪, টাইমস টুডে বা প্রবাস জার্নালের মতো গণমাধ্যমগুলো এই খবরের সত্যতা কোথায় পেল? কার প্রেসক্রিপশনে বা কোন অদৃশ্য উৎস থেকে যাচাই না করেই তারা এই মনগড়া তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করল? শুধু তাই নয় এই গণমাধ্যমের উপর বিশ্বাস করে অনেকেই শেয়ার করেছে। দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো যদি এভাবে মিথ্যাচার করে তাহলে মানুষ আস্থা রাখবে কার উপর?
স্বাধীন সাংবাদিকতার অর্থ কোনোভাবেই যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, হাসিনার আমলের সেই ভয়ের সংস্কৃতি ও চাটুকারিতার যুগ পেরিয়ে যখন গণমাধ্যম আজ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে, তখন একশ্রেণির মিডিয়া সেই স্বাধীনতার চরম অপব্যবহার শুরু করেছে। তারা জেনেশুনে বা না জেনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে সরকারকে বিতর্কিত করার এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
যখন কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তখন তা সরকারের কোনো মাধ্যম থেকে ভেরিফাই করা সাংবাদিকদের ন্যূনতম নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ববোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা সস্তা ভিউ বা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অপতথ্য প্রচার করছে।
এরকম যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচারের কি কোনো আইনি দায়বদ্ধতা থাকবে না? বারবার মানুষকে বিভ্রান্ত করার পরও যদি এই মূলধারার গণমাধ্যমগুলো জবাবদিহিতার বাইরে থাকে, তবে তো সাধারণ মানুষ চিরতরে সংবাদমাধ্যমের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বন্দ্ব তৈরি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।
প্রয়োজনে এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রচারকারী সংবাদমাধ্যমগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হোক এবং লাইসেন্স স্থগিতের মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

















