মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

আদানির চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ

আদানির চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ

সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পর্যালোচনা কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এই চুক্তি বাতিলের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত-আটজন ব্যক্তির অবৈধ সুবিধা নেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিটি।  

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর আওতায় সম্পাদিত চুক্তিসমূহ পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটিতে ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক সিওও আলী আশরাফ, বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান। কমিটি গত ২০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। 

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, আদানির সঙ্গে করা চুক্তিতে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য আদানিকে জানিয়ে তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুরে সালিশি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিলম্ব হলে আইনি কারণে মামলার অবস্থান দুর্বল হয়ে যেতে পারে। 

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুর্নীতি মামলায় এমন তথ্য বিরল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত-আটজনের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

কমিটির মতে, সরকার অন্যান্য উৎস থেকে যে দামে বিদ্যুৎ কিনেছে, তার তুলনায় আদানির কাছ থেকে প্রতি ইউনিটে ৪–৫ সেন্ট বেশি দেওয়া হয়েছে। ভারতের গ্রিড থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের তুলনায়ও এর দাম অনেক বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থান নির্বাচন, দাম নির্ধারণ ও শর্ত আরোপ সব মিলিয়ে এটি দুর্নীতির মাধ্যমেই করা সম্ভব হয়েছে বলে মত দেয় কমিটি। ভারতের গ্রিড থেকে বিদ্যুতের দাম যখন ছিল ৪.৮ সেন্ট, তখন আদানির দাম ধরা হয় ৬.৮ সেন্ট, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.৮৭ সেন্টে।

চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশ সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আদানির ক্ষতি হলে তার দায় বাংলাদেশ সরকারকে বহন করতে হবে। সব অর্থ পরিশোধ করতে হবে ডলারে এবং মাসিক সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১.২৫ শতাংশ।

এদিকে আদানি পাওয়ার এক বার্তায় জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বিষয়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পায়নি এবং প্রতিবেদনটিও তাদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে তারা নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারছে না। 

একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে মতামত বা তথ্য চায়নি।

আদানি আরও জানায়, তারা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশের প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে আসছে। বড় অঙ্কের বকেয়া পাওনা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে তারা। তবে বকেয়া দ্রুত পরিশোধ না হলে তাদের কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

গাইবান্ধায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৩
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে ট্রাক, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান
তারেক রহমানের সম্পদ বলতে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও এফডিআর
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, রাতে বাড়বে শীত
বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
দুই সম্পাদক-এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে : আইন উপদেষ্টা
জকসু নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা