সংগৃহীত
সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন বলে দলটি অভিযোগ এনেছে। বিএনপির নেতারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণের এসব প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
শনিবার বেলা একটায় সিলেট নগরের কাজীটুলা উঁচাসড়ক এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করেন। সিলেট–১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সব সংসদীয় আসনের নির্বাচনকালীন সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তাঁরা বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা লক্ষ করছেন, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল কোমলমতি শিশু ও নারীদের বিভ্রান্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু–কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাঁরা সিলেট নগর ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা ইতিমধ্যে প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটের আগে ও পরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি অভিযোগ করে, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা প্রদর্শন ও বিতরণ করছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, এই তালিকা কেবল নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের এটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ কিংবা বিতরণের কোনো আইনগত অধিকার নেই।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক আনাগোনা বেড়েছে বলেও জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে কয়েস লোদী বলেন, ‘অবৈধ ব্যালট পেপার, সিল ও কালি উদ্ধারের ঘটনায় আমরা গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।’
নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরেই একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বিএনপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এই অপপ্রচার শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়; বরং এটি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে, ভোটারদের মনে অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে এই বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কিন্তু এভাবে আচরণবিধির নগ্ন লঙ্ঘন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
কারা বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং টাকা বিলিয়ে ভোট কিনছে, সংবাদ সম্মেলন শেষে মুঠোফোনে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। জবাবে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তাঁরা এসব বিষয় অবহিত করেছেন। তিনিই সবকিছু দেখবেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা কীভাবে বাইরে এল, এটাও রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে বলে আবদুল কাইয়ুম জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম (জালালী পঙ্খি), বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, মাহবুব কাদির শাহি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান (নজিব), জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান (পাপলু), আবদুল আহাদ খান (জামাল), মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ (সুহেল) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো
















