বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বাসিন্দাদের এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এসব চারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা জমিতে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যক্রম জোরদার এবং দেশে পেপালের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান।

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভাষা শিক্ষার্থী ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির আগেই ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটির ভিত্তিতে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় শূন্য পদে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সবশেষ তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য বিএনপিকে বিগত নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সেজন্যই আমাদের ম্যানিফেস্টোতে শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে তারা ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি। এমনকি বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।

সূত্র: কালবেলা