সংগৃহীত
পাবনায় কিশোরী রিয়া খাতুন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার পীরপুরের পদ্মা নদীর তীর থেকে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিয়া খাতুন ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে। সে জালালপুর কছিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাঈম (২১), শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ (১৯) এবং শিমুল প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক (১৭)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নাঈমের সঙ্গে নিহত রিয়া খাতুনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে নাঈমের বাসায় যায় রিয়া। সেখানে পার্লারে যাওয়ার জন্য ধার করা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে বিরোধে রূপ নেয়।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে নাঈম ভিকটিমকে ধারালো চাকু প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ নিজ বিছানায় রেখে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে নাঈম তার বন্ধু তুহিন ও ইয়াসিনকে ডেকে ঘটনাটি জানান এবং মরদেহ গোপনে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা চান। পরে তিনজন মিলে মরদেহ প্রাইভেট কারে করে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেন।
রেজিনুর রহমান বলেন, ঘটনার পর পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করে। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মরদেহ পরিবহনকারী একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।
পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট




.avif)













.webp)
.webp)