• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

ফরিদপুরে কমলা চাষে সফল দুই বন্ধু!

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুরে কমলা চাষে সফল হয়েছেন দুই বন্ধু ইলিয়াস কাজী ও উজ্জ্বল কাজী। তাদের বাগানে প্রায় প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ রঙের কমলা। জাহানপুরে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে বাগান করে কমলা চাষে তাক লাগিয়েছেন তারা। তাদের বাগানটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন।

জানা যায়, দুই বন্ধু ইলিয়াস কাজী ও উজ্জ্বল কাজী ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের টুংরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৫২ শতাংশ জমিতে দেড় শতাধিক গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে। বাগান দেখতে আসা অনেকেই কমলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কমলা ছিড়ে খাচ্ছেন।

বাগান মালিক ইলিয়াস কাজী বলেন, আমি আর আমার বন্ধু উজ্জ্বল কাজী অনলাইনে কমলার চাষ দেখে বাগান করার উদ্যোগ নেই। গত ৩ বছর আগে চুয়াডাঙ্গা থেকে দেড় শতাধিত চারা সংগ্রহ করে ৫২ শতাংশ জমিতে রোপন করি। গাছের পরিচর্যার বিষয় অনলাইনেই দেখেছি। গত বছর কিছু গাছে ফুল ফল আসলেও তখন তা ঝড়ে পড়ে। আমরা হাল ছাড়িনি। েএখন প্রায় সব গাছেই প্রচুর পরিমানে কমলা এসেছে।

ইলিয়াস কাজীর স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, আমরা দিন রাত বাগানের পরিচর্যা করি। বাগানে ২ জাতের কমলা রয়েছে। একটি চায়না জাতের ও আরেকটি দার্জিলিং জাতের। বাগান থেকেই ১০০ টাকা কেজি দরে কমলা বিক্রি করতে পারছি। এখন পর্যন্ত বাগান থেকে ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছি। গাছে যা কমলা আছে তা আরো ৫০ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবো। আশা করছি আগামী বছর এই বাগান থেকে ২-৩ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবো।

বাগান সম্পর্কে উজ্জ্বল কাজী বলেন, অনলাইনে কমলার চাষ দেখে আমরাও কমলা চাষের সিদ্ধান্ত নেই। আমি পুরোপুরি বাগনে সম্পৃক্ত না থাকতে পারলেও বিভিন্নভাবে তাদের সহায্য করি। বাগানটি ইলিয়ার ও তার স্ত্রী দেখাশোনা করেন।

ফরিদপুর শহর থেকে আসা দর্শনার্থী কামরুজ্জামান হীরা ও আকবর বিশ্বাস রাজুসহ আরো বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা এই প্রথম এমন কমলা বাগান দেখলাম। এর আগে কখনো কমলার বাগান দেখিনি। বাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই কমলা ধরেছে। গাছের কমলা খেতে খুবই সুস্বাদু। আমরা গাছ থেকে কমলা ছিড়ে খেলাম। আমরা ১০০ টাকা কেজি দরে কয়েক কেজি কমলা কিনে নিয়েছি। আমরা বাগান মালিক থেকে পরামর্শ নিয়েছি। অল্প পরিসরে বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছি।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য উপযোগী। আমরা দুই তরুণের কমলার চাষে সফলতার কথা শুনেছি। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগীতা করবো।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া