শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সংস্কার কেন জরুরি, অর্থায়ন হবে কীভাবে?

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সংস্কার কেন জরুরি, অর্থায়ন হবে কীভাবে?

সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আজ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কয়েক দশকের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য দুর্বলতা দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো অতিমাত্রায় ব্যক্তিখাতের ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, হাসপাতালকেন্দ্রিক এবং খণ্ডিত। অসংক্রামক রোগের (NCD) দ্রুত বৃদ্ধি, জনসংখ্যায় প্রবীণদের অনুপাত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি সত্যিই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) অর্জন করতে চায়, তবে স্বাস্থ্য সংস্কারের কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (Primary Healthcare—PHC) কে আনতে হবে। তবে সেটা শুধু কেবল নীতিগতভাবে নয়, অর্থায়নের ক্ষেত্রেও করতে হবে।

কেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেবল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রথম স্তর নয়; এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আছে, তারা কম খরচে ভালো, কার্যকর সেবা দিতে পারে এবং তারা স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে দরিদ্র হওয়ার প্রবণতাও কমাতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই যুক্তি আরও জোরালো। দেশের অধিকাংশ স্বাস্থ্য সমস্যা, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, শিশু রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ইত্যাদির জন্য বেশিরভাগ সময় বড় হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এগুলোর জন্য দরকার নিয়মিত, প্রতিরোধমূলক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা। অথচ সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ এখনো টার্শিয়ারি হাসপাতাল ও অবকাঠামোতে ব্যয় হয়, যা কেবল সীমিতসংখ্যক মানুষকে সেবা দেয়।

ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে দুর্বল প্রাথমিক কাঠামো এড়িয়ে সরাসরি বেসরকারি খাতে যায়। এর ফল হলো উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়, অনিয়ন্ত্রিত সেবা এবং ব্যাপক নিজের পকেট থেকে খরচ (Out of pocket expenses)। বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসে জনগণের পকেট থেকে। প্রতিবছর লাখো পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে দারিদ্র্যে নেমে যায়। এই বাস্তবতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ মানে শুধু স্বাস্থ্য উন্নয়ন নয়, দারিদ্র্য প্রতিরোধের কৌশলও।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেওয়া মানে হাসপাতালকে অবহেলা করা নয়। বরং এর অর্থ হলো হাসপাতালকে রেফারাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং অধিকাংশ স্বাস্থ্য চাহিদা আগেই, কম খরচে সমাধান করা। ফলে হাসপাতালগুলো আরও সেবার মান বাড়াতে পারবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রায়ই সামাজিক ব্যয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি হাই ইমপ্যাক্ট বিনিয়োগ। প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা ভবিষ্যতের ব্যয় কমায়, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়।

বাংলাদেশে এখন মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অসংক্রামক রোগজনিত। অথচ এসব রোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত। উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ নিয়মিত ফলোআপ ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর তার জন্য হাসপাতাল নয়, ভালো মানের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা বেশি। সময় থাকতে এই খাতে বিনিয়োগ না করলে সামনে চাপ সামলানো জটিল থেকে জটিলতর হবে বলা বাহুল্য।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কী ধরনের সংস্কার ও উদ্ভাবন দরকার

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর করতে হলে শুধু বিদ্যমান কাঠামো সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। সেবা প্রদান পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও প্রশাসনে পরিবর্তন আনা জরুরি।

প্রথমত, সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য প্রাথমিক সেবাকেন্দ্রে কেবল মা ও শিশুসেবা নয় বরং অসংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং, মানসিক স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরী ও প্রবীণ সেবাও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সব-বয়সীদের সেবা (লাইফ-সাইকেল এপ্রোচ) প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভাবতে হবে।

বাংলাদেশে এখন মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অসংক্রামক রোগজনিত। অথচ এসব রোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত।

দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের পেশাগত মান উন্নত করা ও তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তারাই এই ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, অথচ তারা এখনো সীমিত প্রশিক্ষণ, গুনগত মানের অভাব ও স্বল্প বেতন পেয়ে থাকেন। মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নিয়মিত তদারকি, ডিজিটাল সহায়তা ও প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক দিলে অল্প ব্যয়েই বড় প্রভাব তৈরি সম্ভব। শ্রীলঙ্কা এর ভালো উদাহরণ হতে পারে।

তৃতীয়ত, ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে পারে। ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল রেফারাল ব্যবস্থা সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হতে পারে যদি তা বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগ করা যায়।

চতুর্থত, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ও জরুরি। বর্তমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা একাধিক অধিদপ্তর ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে বিভক্ত। এই বিভাজন অপচয় ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি করে। সমন্বিত পরিকল্পনা ও ক্রয়ব্যবস্থা ছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা কঠিন।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়: খরচ নয়, ভবিষ্যতের সুরক্ষা

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর বিনামূল্যে হবে না। অবকাঠামো, জনবল, ওষুধ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিনিয়োগ দরকার। স্বল্পমেয়াদে সরকারি ব্যয় বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিনিয়োগ না করলে খরচ কি কম থাকবে? বাস্তবতা হলো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে হাসপাতাল ব্যয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই এটি খরচ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা বিনিয়োগ হিসেবে ভাবতে হবে।

কীভাবে ধাপে ধাপে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন সম্ভব

বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন হতে হবে ধাপে ধাপে, বাস্তবসম্মত এবং স্পষ্ট লক্ষ্যনির্ভর। একবারে বড় সংস্কার নয়, বরং ধারাবাহিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট যে সফল দেশগুলো এই পথই অনুসরণ করেছে।

প্রথম ধাপ: বিদ্যমান বাজেটের পুনর্বিন্যাস

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন বাড়ানোর প্রথম এবং সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো বর্তমান স্বাস্থ্য বাজেটের ভেতরেই অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ এখনো ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি কেনা এবং টার্শিয়ারি কেয়ার হাসপাতাল সম্প্রসারণে ব্যয় হয়। অথচ অনেক ক্ষেত্রে এই অবকাঠামো পুরোপুরি ব্যবহৃত হয় না, কিংবা সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধের ঘাটতিতে ভোগে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয় এমন খাতে যেমন প্রয়োজনীয় ওষুধ, বেসিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, নিয়মিত সাপ্লাই চেইন এবং প্রশিক্ষিত জনবল ইত্যাদিতে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম হলেও প্রভাব অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের নিয়মিত ওষুধ ও ফলোআপ নিশ্চিত করা একটি ব্যয়বহুল হাসপাতাল ভর্তি প্রতিরোধ করতে পারে।

থাইল্যান্ড তার ইউনিভার্সাল কাভারেজ স্কিম চালুর সময় হাসপাতাল সম্প্রসারণের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক সেবায় ওষুধ ও মানবসম্পদে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। এর ফলে সেবা দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কম আউট-অব-পকেট ব্যয় কমে যায়। 

দ্বিতীয় ধাপ: স্বাস্থ্য-কর (Sin Tax) ব্যবহার করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি

স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত অর্থায়নের একটি কার্যকর উপায় হলো ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি। বিশেষ করে তামাক, মদ, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর এই কর বসানো হয়। এই কর একদিকে যেমন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ কমায়, অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে স্থায়ী রাজস্বের উৎস তৈরি করে।

ফিলিপাইনের ‘Sin Tax Reform’ একটি দারুণ উদাহরণ। তামাক ও অ্যালকোহলের ওপর কর বাড়িয়ে দেশটি স্বাস্থ্যখাতে বিপুল রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যার একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ বাড়াতে। এর ফলে স্বাস্থ্য বাজেট বেড়েছে, আবার ধূমপানের হারও কমেছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে হাসপাতাল ব্যয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই এটি খরচ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা বিনিয়োগ হিসেবে ভাবতে হবে।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের উচ্চ হার বিবেচনায় নিয়ে এই খাত থেকে রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা এখনো ব্যাপক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ করা নিশ্চিত করা। এতে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং কর সংস্কারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।

তৃতীয় ধাপ: স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় কমানো

অর্থায়ন বাড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি বিদ্যমান অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ লাইন-আইটেম বাজেটিংয়ের মাধ্যমে হয় যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন, ভবন ও যন্ত্রপাতির জন্য অর্থ পায় যা সেবাদানের মান সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং বলতে বোঝায় সরকার নির্দিষ্ট সেবা বা আউটকামের জন্য অর্থ প্রদান করবে, কেবল ইনপুটের জন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র কতজন রোগীর NCD স্ক্রিনিং করল, কতজনকে নিয়মিত ফলোআপে রাখল এসবের ভিত্তিতে অর্থায়ন করা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের ক্যাপিটেশন ও পারফরম্যান্স-ভিত্তিক পেমেন্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করেছে। একই ধরনের মডেল সীমিত পরিসরে বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে। শহর এলাকায় কিছু পাইলট চলছে। তার থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

এই পদ্ধতি চালু হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং একই বাজেটে বেশি ও ভালো সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।

চতুর্থ ধাপ: সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্প্রসারণ যার কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা

দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন টেকসই করতে হলে সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অপরিহার্য। তবে এই সম্প্রসারণ হতে হবে ধাপে ধাপে এবং বাস্তবসম্মতভাবে।

সব দেশ একবারে সবার জন্য পূর্ণ বীমা চালু করতে পারেনি। বেশিরভাগ দেশই প্রথমে সীমিত সেবা প্যাকেজ দিয়ে শুরু করেছে, যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ছিল মূল স্তম্ভ। পরবর্তীতে আর্থিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাভারেজ ও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রথম ধাপে সরকারি কর্মচারী, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমিত কিন্তু শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ চালু করা যেতে পারে। এতে জনগণের আস্থা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে বিস্তৃত কাভারেজের পথ সুগম হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। হাসপাতাল নির্মাণ দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা আনে। কিন্তু প্রাথমিক সেবার সুফল পেতে ও তা দৃশ্যমান হতে সময় লাগে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মনোযোগ দেওয়া মানে শুধু স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার শুরু করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পুরো অর্থনীতিই ভোগ করবে। তাই আমাদের আগামীর নেতৃত্ব সেদিকেই বেশি মনোযোগী হবে বলে আশা করি।

ড. শাফিউন নাহিন শিমুল : অধ্যাপক ও পরিচালক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

১৫ বছর শুধু বগুড়া নয়, সারা দেশই বঞ্চিত ছিল: তারেক রহমান
গাইবান্ধায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৩
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে ট্রাক, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান
তারেক রহমানের সম্পদ বলতে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও এফডিআর
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, রাতে বাড়বে শীত
বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
দুই সম্পাদক-এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে : আইন উপদেষ্টা
জকসু নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা