রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

কার স্বার্থে পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলা?

কার স্বার্থে পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলা?

সংগৃহীত

কার স্বার্থে পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলা?

অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যারা আপনাদের উস্কানি দিচ্ছে তাদের কথা শুনে যদি কারখানায় ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন আপনারাই ।

একবার ভেবে দেখুন, আপনার ঘামে গড়ে ওঠা একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হলে লাভবান হবে কে? মহাসড়ক অবরোধে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের শিল্প খাত সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছালে তার মাশুল দিতে হবে কাকে? বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে নতুন বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে গেলে কিংবা বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে আপনাদেরই কর্মসংস্থান।

ইতোমধ্যে সরকার পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগের উস্কানিতে পোশাক শিল্পে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পোশাক শিল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে তারা ক্ষতির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। ৩১ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএও এই বোর্ড গঠনের দাবিতে সম্মতি দিয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। দাবি আদায়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক পথ তৈরি হচ্ছে, তাহলে কেন আপনারা উস্কানিতে পা দিচ্ছেন ?

তাহলে এই পরিস্থিতিতে সংঘাত ও ভাঙচুরের প্রয়োজন কেন? কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে? শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক বা স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

মনে রাখবেন, বিদেশি ক্রেতারা যখন অর্ডার বাতিল করেন, তখন তার প্রভাব শুধু কারখানার মালিকের ওপর পড়ে না। উৎপাদন কমে, শ্রমিকের কর্মঘণ্টা কমে, কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়, এমনকি কর্মসংস্থানও হারাতে হয়। কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে বেতন ও জীবিকার অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলনের কারণে বহু কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত ও ছুটি ঘোষণার খবর এসেছে।

যারা উসকানি দিচ্ছে, তারা কি আপনার সংসারের দায়িত্ব নেবে? আপনার সন্তানের পড়াশোনার খরচ দেবে? কারখানা বন্ধ হলে আপনার পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করবে? নিশ্চয়ই নয়! তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, যার দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হবে আপনাকেই।

#শ্রমিক #garmentfactory #Bangladesh #পোশাকশিল্প

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: