• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বগুড়ার শেরপুরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২১  

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আসন্ন। তাই বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার ৮৮টি মন্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মা দুর্গার প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত শিল্পীরা। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। শেষ মুহুর্তে প্রতিমাতে পড়ছে ভাস্করের রং তুলির শেষ আঁচড়। পাশাপাশি চলছে সাজসজ্জার কাজ। দেবী মা দুর্গা। বিদ্যার দেবী স্বরস্বতী। ধন সম্পদের দেবী লক্ষী। সঙ্গে দেবতা কার্তিক, গনেশসহ দেব-দেবীর পুরো অবয়ব ফুঠে তোলায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

এদিকে এই উৎসবে নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশি^ক মহামারী করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মানাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবকে সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আয়োজকদের সঙ্গে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তদের আশা, এবার দেবী দুর্গার আশীর্বাদে পৃথিবী করোনামুক্ত হবে, সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে দেশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই উপজেলার ৮৮টি মন্ডপে সবার প্রতিমা স্থাপন চলছে। সবার ওপরে মা দুর্গা। আর সেই মাকে ঘিরে যতসব আয়োজন। মায়ের ঠিক পায়ের নিচে মহিষ ও সিংহ। ডান পাশে লক্ষী এবং গণেশ। আর মায়ের বাম পাশে স্থান করে দাঁড়িয়ে আছে স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুর। জমকালো সেই পোশাক পড়ানোর কাজও থেমে নেই। এছাড়া দেবীর হাতের চক্র, গদা, তীর-ধনুক ও ত্রিশূল রংয়ের পাশাপাশি পড়ানো হচ্ছে। সবমিলে আয়োজন প্রায় শেষ দিকে।

আসছে ১১অক্টোবর থেকে শুরু হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসব চলবে ৫দিন ধরে। আর এই উৎসব ঘিরে এতসব আয়োজন। দেশের অন্য স্থানের ন্যায় এই উপজেলাতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। সেই সঙ্গে পূজা মন্ডপগুলো রংবেরংয়ের কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়ার কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

এসময় কথা হয় প্রতিমা শিল্পী রামচন্দ্র রাজবংশীর সঙ্গে। তিনি জানান, দুর্গাপূজার বোধনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সেই দিনটি আসতে আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। এরপরই শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এই উৎসব। মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক আর ঢোলের শব্দ। তাই প্রতিমার সৌন্দর্য আর চাকচিক্য বাড়াতে এই উপজেলার সর্বত্র চলছে শেষ সময়ের কর্মযজ্ঞ।

উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় এবার ৮৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে শেরপুর পৌরসভায় ৩০টি, বিশালপুর ইউনিয়নে ১৪টি, সীমাবাড়ী ইউনিয়নে ৮টি, খানপুর ইউনিয়নে ৮টি,ভবানীপুরে ৬টি, সুঘাট ইউনিয়নে ৬টি, গাড়ীদহ ইউনিয়নে ৪টি,শাহবন্দেগী ইউনিয়নে ৪টি, মির্জাপুরে ৩টি, কুসুম্বীতে ৩টি ও খামারকান্দি ইউনিয়নে ২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিমাই ঘোষ জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসমুখরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন পালিত হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি। সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া