রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইফতারে তৃপ্তি বগুড়ার সাদা দই

ইফতারে তৃপ্তি বগুড়ার সাদা দই

ইফতারের বাহারি পদের মধ্যে বগুড়ার মানুষের কাছে দই অন্যতম। ইফতারের নিয়মিত পদ হিসেবে দইয়ের কদর ঘরে ঘরে। প্রতিবারের মতো এবারও বগুড়ায় দইয়ের কদর বেশি। তবে সারা দেশে, সারা বছর ঐতিহ্যবাহী যে দইয়ের কদর থাকে রোজায় তার চেয়ে বেশি কদর বাড়ে সাদা দই বা টক দইয়ের। দুপুরের পর থেকেই দই কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় করেন রোজাদাররা। জেলার বাইরে থেকেও ব্যবসায়ীরা আসেন দই কিনতে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, এবারের রমজানে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার দই বেচাকেনা হবে।

সরেজমিনে বগুড়া শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, গোহাইল রোড, স্টেশন সড়ক, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া, জলেশ্বরীতলা, বাদুরতলা, কালিতলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার দইয়ের দোকানগুলোতে এখন মিষ্টি দইয়ের তুলনায় সাদা দইয়ের কদর বেশি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে ইফতারিতে সাদা দই দিয়ে তৈরি পানীয়র জুড়ি মেলা ভার। তাই সাদা দইয়ের বিক্রি এসময় বেশি হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় সাদা দইয়ের হাঁড়ি বা আকার ভেদে শহরে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। শহরের আকবরিয়া দই বিপণন শাখার ম্যানেজার আলমগীর জানান, সারা বছর আকবরিয়ার দই বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের শাখা রয়েছে। সেসব জায়গায় সাধারণত মিষ্টি দই বিক্রি হয়। কিন্তু রমজানে সাদা দইয়ের চাহিদা বাড়ে।

শহরের স্টেশন রোডের মহররম আলী দইয়ের ঘরের ফয়জুল ইসলাম সাকিব জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী দই সরবরাহ করা হয়। আকার ভেদে সাদা ৮০ টাকা ও ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

শহরের মিঠাই মেলার তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব বলেন, আমরা নিজেদের খামারে গরুর দুধ দিয়ে দই তৈরি করি। রোজা ইফতারি সাদা দইয়ের কদর বেশি। সাদা দইয়ের প্রতি হাঁড়ি ৯০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শহরের কাঁঠালতলা এলাকায় ভাড়ে করে ফুটপাতে দই বিক্রেতা গাবতলীর মিথুন ঘোষ, চেলোপাড়ার মৃগেন জানান, বাড়িতে দই তৈরি করে তা বগুড়া শহরে এনে বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ পিসের মতো বিক্রি হয়। ছোট হাঁড়ি ৫০ টাকা ও বড় হাঁড়ি ১০০ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন তারা।

জেলার সদর, গাবতলী, শেরপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম, ধুনট, দুপচাঁচিয়া, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও শিবগঞ্জে সব ধরনের দইয়ের কারখানা রয়েছে। সে সব কারখানায় সারা বছর সাদা দই উৎপাদন কম হলেও রোজার মধ্যে বেশি হয়। শহরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়া জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। যাতে করে মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটির টাকার সাদা দই বেচাকেনা হবে। যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি।

সাদা দই কিনতে আসা শহরের ফুলবাড়ি এলাকার সজল শেখ জানান, ইফতারিতে সাদা দই অনেক উপকারী। সারা দিন পর রোজার ক্লান্তি দূর করতে সাদা দইয়ের ঘোল খুব উপকারী। আর পরিবারের সবার পছন্দের। আরেক ক্রেতা গোলাম মোস্তফা বলেন, দিনশেষে বাসায় সাদা দই নিয়ে ফিরি। বাসায় অন্য ইফতার তৈরি হয়। কিন্তু সাদা দই আমাদের তৃষ্ণা মেটাতে খুব কার্যকরী ও হজমে ভালো কাজ দেয়।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: