বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

মাদরাসাছাত্রকে বেত্রাঘাত করায় প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত

মাদরাসাছাত্রকে বেত্রাঘাত করায় প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত

সংগৃহীত

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসায়। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ হাসান (১০)। সে ওই মাদ্রাসার হেফজখানা বিভাগের আবাসিক ছাত্র এবং জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। বুধবার সকালে পড়া না পারায় মাদরাসার শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন। তবে ঘটনাটি সে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানায়নি। বিকেলে নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান ছেলের জন্য নাস্তা নিয়ে মাদরাসায় গেলে তার শরীরে জখমের দাগ দেখতে পান। এ সময় নাহিদ জানায়, সকালে পড়া না পারায় শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত্রাঘাত করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য শিক্ষকরা আবু হুরাইরাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রামশালা মোড়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নাহিদ হাসান বলে, আমি পড়া দিতে পারিনি বলে হুজুর আমাকে বেত দিয়ে অনেক মেরেছেন। আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাইনি।

নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, শাসন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু ছেলেকে যেভাবে মারা হয়েছে তা অমানবিক। চোরকেও কেউ এভাবে মারে না। সকালে মারা হলে সন্ধ্যার সময়ও তার শরীরের আঘাতের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ সঠিক নয়। উত্তেজিত লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজান আলী বলেন, ওই মাদরাসায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ শোনা যায়। আগেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রের শরীরের অবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চম্পক কুমার/আরকে

জনপ্রিয়