সংগৃহীত
চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় প্রায় ১০,১৫০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে ধুনট, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকরা জানান, চিনা বাদাম একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা সবসময়ই ভালো থাকে। বর্তমানে প্রতি কেজি বাদাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোসা ছাড়া বাদামের দাম উঠেছে প্রতি কেজি প্রায় ২০০ টাকা। এতে করে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।
চিনা বাদাম থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা যায়। এর মধ্যে পিনাট অয়েল ও বাটার অন্যতম। বাজারে পিনাট অয়েলের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকা, যা স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হিসেবে বিবেচিত। ফলে খাদ্য ও শিল্প—উভয় ক্ষেত্রেই বাদামের ব্যবহার বাড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনা বাদামের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বাদামের আবাদ আরও বৃদ্ধি করা গেলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে লাভবান হতে পারবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় বর্তমানে ৮ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে কৃষি অফিস ও বেসরকারি পর্যায় থেকে উন্নত বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে এ ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব।
কৃষকদের দাবি, সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতা বাড়ানো হলে আগামীতে চিনা বাদামের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















.jpg)
.jpg)