শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

র-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার তদন্ত, ব্যক্তিগত স্খলন ও বাধ্যতামূলক অবসর, কাকে ‘জুলাইয়ের আইকন’ বানাচ্ছে জামা

র-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার তদন্ত, ব্যক্তিগত স্খলন ও বাধ্যতামূলক অবসর, কাকে ‘জুলাইয়ের আইকন’ বানাচ্ছে জামা

সংগৃহীত

র-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার তদন্ত, ব্যক্তিগত স্খলন ও বাধ্যতামূলক অবসর, কাকে ‘জুলাইয়ের আইকন’ বানাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি বটবাহিনী?

তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদল পেইড বট ও জামায়াত-এনসিপির বিশেষ প্রোপাগান্ডা চক্র মাঠে নেমেছে। ময়নাতদন্ত কিংবা পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তারা তাকে তড়িঘড়ি করে ‘জুলাই বিপ্লবের মহাবীর’ ও ‘শহীদ’ বানানোর নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।

কিন্তু লাশ নিয়ে এই সেন্টিমেন্ট বাণিজ্যের আড়ালে তাহসিফ সুরির আসল রূপ ও পেছনের ইতিহাস কি আপনারা জানেন?

১. ভিডিও তিনি ধারণ করেননি, ছড়িয়েছিলেন বিভ্রান্তি তৈরির ছকে:

বটবাহিনী প্রচার করছে তিনি নাকি জীবন বাজি রেখে হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণ করেছিলেন! অথচ দৈনিক ‘আমার দেশ’-এর বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি তিনি নন; কুর্মিটোলা অফিসার্স মেসের জানালা থেকে এটি তুলেছিলেন ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফী। আর তাহসিফ সুরি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছিলেন। এয়ার ইন্টেলিজেন্সের তদন্তে স্পষ্ট উঠে আসে শেখ হাসিনা যে সি-১৩০ বিমানে দিল্লি পালাচ্ছেন, সেই আসল রুট আড়াল করে ‘হেলিকপ্টারে পালাচ্ছেন’ এমন বিভ্রান্তিকর বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খেলা হয়েছিল।

২. কেঁচো খুঁড়তে সাপ: ফাঁস হয়েছিল বিমান বাহিনীর ‘র’ (RAW) নেটওয়ার্ক:

এই তাহসিফ ও রিফাতদের ছড়িয়ে দেওয়া ভিডিওর সূত্র ধরেই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে বিমান বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিপজ্জনক শ্যাডো নেটওয়ার্কের সন্ধান পায় এয়ার ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিএফআই। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার হন ‘র’-এর সক্রিয় এজেন্ট স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ (যার কোর্ট মার্শালে ১০ বছরের সাজা হয়েছে)। সেই একই তদন্তের জালে জড়িয়ে যায় তাহসিফ সুরির নামও।

৩. শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কারণে চাকরিচ্যুতি:

তিনি কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার নন। বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্তি, নারীঘটিত কেলেঙ্কারি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং চরম সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

তাহলে আজ এই অপপ্রচার কেন?

যেকোনো নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত হতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত।

কিন্তু প্রশ্ন হলো তদন্তের আগেই জামায়াত-এনসিপির বটবাহিনী কেন একজন বিতর্কিত, শৃঙ্খলাভঙ্গে বরখাস্ত এবং ‘র’ সংশ্লিষ্টতার তদন্তে নাম আসা ব্যক্তিকে ‘জুলাই বিপ্লবের নায়ক’ বানিয়ে ফেলছে? উদ্দেশ্য পরিষ্কার লাশ নিয়ে রাজনীতি করা, অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করা এবং সস্তা সেন্টিমেন্ট বিক্রি করে জুলাইয়ের রক্তস্নাত ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করা!

#TahsifSouri #BangladeshAirForce #July #JamateIslami #NCP

জনপ্রিয়

সর্বশেষ:

শিরোনাম: