সংগৃহীত
মদ্যপান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও ‘র’ এজেন্টের যোগসূত্র— মৃত্যুর রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে এই তিন কারণে
তুরাগ নদ থেকে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে হঠাৎ করেই জুলাই অভ্যুত্থানের একক নায়ক বানিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। অথচ তার বাহিনী থেকে বের হওয়ার প্রেক্ষাপট এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত, সেগুলোকে এড়িয়ে গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না।
রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের বারে তাহসিফের প্রায়শই মদ্যপানের খবর এবং একই হোটেলগুলোতে নারীদের সঙ্গে রাত্রি যাপনসহ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। বিমানবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলাবিধির আওতায় এ ধরনের ব্যক্তিগত অসদাচরণ ও মাদক-নারী সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ভিডিও ছড়ানোর ঘটনা নয় বরং এই শৃঙ্খলাজনিত তদন্তই তার বাধ্যতামূলক অবসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বরখাস্তকৃত স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়। আমার দেশসহ কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আলতাফকে ভারতীয় ‘র’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে কোর্ট মার্শালে ১০ বছরের সাজার কথা বলা হয়েছে। ভিডিও ফাঁসের পর এয়ার ইন্টেলিজেন্সের তদন্তে আলতাফের সূত্র ধরেই অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের খোঁজ পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাহসিফের মদ্যপান, নারী-সংক্রান্ত অভ্যাস এবং একজন অভিযুক্ত ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে দেখে তার ‘র’-এর সঙ্গে পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
প্রচলিত অনুসন্ধানী বয়ানে মদ্যপান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও আলতাফের সঙ্গে যোগসূত্রকেই সবচেয়ে বেশি হাইলাইট করা হচ্ছে। কারণ এই বিষয়গুলোই তার বাহিনী থেকে বের হওয়ার এবং পরবর্তী পরিস্থিতির একটি বাস্তব প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসেনি। সুরতহালে বাইরের আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও ডুবে মৃত্যু, বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণ খতিয়ে দেখা হবে। যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু দুঃখজনক এবং সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু মদ্যপান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং অভিযুক্ত ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এই তথ্যগুলোকে উপেক্ষা করে শুধু আবেগ দিয়ে তাকে হিরো বানানো বা হত্যাকাণ্ডের রায় দিয়ে দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক নয়।
ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক নথির আলোকেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত। অন্ধ হিরোইজম পরিহার করে সত্যের মুখোমুখি হতে হলে এই বাস্তব প্রেক্ষাপটগুলোকেও স্বীকার করতে হয়।











