• মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ২০ সফর ১৪৪৩

সাড়ে ৬ ঘণ্টায় ঢাকা-কুয়াকাটা : আগস্টেই পায়রা সেতুর উদ্বোধন

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২১  

আগস্ট মাসেই খুলে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চার লেনের পায়রা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর উদ্বোধন করবেন। তবে তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে ঢাকার সঙ্গে কুয়াকাটা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এই পথে আর কোনো ফেরি থাকবে না।
জানা গেছে, পায়রা সেতুটি হচ্ছে আধুনিক মানের চার লেনের সেতু। করোনাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড এন্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেড সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি। তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর চলতি জুলাইয়ে সেতুটি উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে দফায় দফায় বিধিনিষেধে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা যায়নি।
এই সেতু নির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড এন্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে সেতুর নির্মাণকাজের জন্য ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পাঁচ বছরে তিন দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। সেতুর সৌন্দর্যবর্ধনসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক কাজ এরই মধ্যেই শেষ হওয়ায় সেতুটি এখন উদ্বোধনের সময় গুনছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর গত ৪ জুন পায়রা সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সেতুটি নির্মাণের ক্ষেত্রে গুণগত মানের ব্যাপারে কোনো আপস করা হয়নি। ২০০ মিটার করে দীর্ঘ দুটি স্প্যান এই সেতুতে বসানো হয়েছে। নদীর তলদেশে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল বসানো হয়েছে। এই সেতু বারিশালের সঙ্গে পটুয়াখালীকে যুক্ত করবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালী জেলার লেবুখালি এলাকার পায়রা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত। সেতুটি খুলে দেয়া হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। শুধু তাই না, পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে নৌপথের পাশাপাশি এখন সড়কপথেও সরাসরি মালপত্র আনা-নেয়া করা সম্ভব হবে। বর্ষাকালে ঢাকার বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর ছাদ ঠেকে যাওয়ার ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে। তবে ভরা জোয়ারের সময়ও পায়রা সেতুর নিচ দিয়ে পণ্য ও জ্বালানিবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ নিবিঘেœ চলাচল করতে পারবে বলে প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেছেন। জোয়ারের সময় নদীর পানি থেকে সেতুর উচ্চতা ১৮ দশমিক ৩০ মিটার থাকবে।
প্রকৌশলীরা জানান, ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অনুমোদিত নকশা অনুসারে দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার ও প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। সেতুর এপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেতুর টোল আদায়ের জন্য পটুয়াখালী প্রান্তে টোল প্লাজা নির্মাণ করা হয়েছে। খর¯্রােতা পায়রা নদীর ভাঙন থেকে সেতুটি রক্ষায় পটুয়াখারী প্রান্তে ১ হাজার ৪৭৫ মিটার নদী শাসন কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বরিশাল প্রান্তেও নদী শাসনের কাজ করা হচ্ছে। সেতুটি রাতের বেলায় সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকবে।
দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট বরিশাল থেকে পর্যটন শহর কুয়াকাটায় যেতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং ঢাকা থেকে মাত্র সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে এ সেতুর মাধ্যমে। এতে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে। শুধু তাই নয়, পায়রা বন্দরের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কন্টেইনারবাহী ট্রেইলারও এই সেতুর ওপর দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে।
পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, উদ্বোধনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সেতুর ৩১টি পিয়ারের ওপর ৩২টি স্প্যান দাঁড়িয়ে আছে। ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট থাকায় দূর থেকে সেতুটি ঝুলন্ত সেতুর মতো মনে হবে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া