বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশু রামিসা হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

শিশু রামিসা হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার (২০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘তনু থেকে আছিয়া, রামিসা—এর পরে আর কত’, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে কবে’, ‘I have a plan, বাংলাদেশ উল্টে যাক আমি রইবো চুপচাপ’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাদিকুন্নাহার তামান্না বলেন, শিশুদের যেখানে আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানে তারা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধ করছে। বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ধর্ষণের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানালেও কোনো দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়নি। বিগত নয় দিনে পাঁচজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনা দেশের ভয়াবহ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে, সে আগেও আসামি ছিল এবং জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় তারা আরও ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা থেকে বের হয়ে দেশের বাস্তব অবস্থার দিকে তাকান, দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার দিকে তাকান।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ফাহমিদা ‘রামিসা হত্যার’ ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যর্থতা শুধু কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, পুরো জাতির। একইসঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য রাষ্ট্রকেও দায় নিতে হবে এবং রাষ্ট্র কখনোই এই দায় এড়াতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর বিচার হচ্ছে না। কিছুদিন আলোচনা হওয়ার পর নতুন কোনো ইস্যু এলে পুরোনো ঘটনাগুলো মানুষ ভুলে যায়, আর এই বিচারহীনতার কারণেই অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।

সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, অপরাধীরা এখন দিনের বেলা খুন ও ধর্ষণ করতে ভয় পাচ্ছে না। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায়তার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রামিসার বাবা বলছে তারা বিচার চায় না, কারণ রাষ্ট্র বিচার দিতে ব্যর্থ। এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের। কোনো অপরাধীরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখা যাচ্ছে না। অথচ দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসত।

সরকার যাতে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়