মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বো*মের মতো সিলিন্ডার বি*স্ফোরণ, করণীয় কী

বো*মের মতো সিলিন্ডার বি*স্ফোরণ, করণীয় কী

সংগৃহীত

দেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বেড়েছে প্রাণহানির সংখ্যাও। এ দুর্ঘটনা যেন পরিণত হয়েছে নিত্যদিনের খবরে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের অসচেতনতা ও অসর্তকতার কারণেই মূলত গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটছে।

সম্প্রতি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩৬ জন দগ্ধ হন। এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে গাজীপুরেই আরো একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শিশু ও নারীসহ আটজনের প্রাণহানি হয়, আহত হন আরো ১১ জন। সবশেষ আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরের ভাসানটেকে গ্যাস লিকেজ থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন তারা। চিকিৎসক জানিয়েছেন তাদের সবার অবস্থায় আশঙ্কাজনক।

বিস্ফোরণ  পরিদফতরের সূত্রমতে জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০ লাখের বেশি গ্রাহক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। রাজধানী ঢাকার বাইরে এই গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, বাজারে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩০টি কোম্পানির অন্তত দুই কোটি সিলিন্ডার রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদফতরের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বাজারে রান্নার জন্য যেসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়, সেগুলো যথেষ্ট নিরাপদ।

এ বিষয়ে বিস্ফোরণ পরিদফতরের প্রধান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলপিজি গ্যাস যে চাপ তৈরি করে, তার চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি চাপ ধারণ করার ক্ষমতা এসব সিলিন্ডারের থাকে। তাই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনো ঝুঁকি নেই।

তাহলে কেন এত সিলিন্ডার বিস্ফোরণ?

আবুল কালাম আজাদ বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মূলে রয়েছে এর যথাযথভাবে পরিবহন, মজুত ও ব্যবহার না করা।

সিলিন্ডারে দুর্ঘটনাগুলো মূলত গ্যাসের লিকেজ থেকে ঘটে। হোস পাইপ, রেগুলেটর, গ্যাস ভালভ ইত্যাদিতে দুর্বলতার কারণে যেকোনো সময় গ্যাস লিক হতে পারে। সেই লিকেজ থেকে গ্যাস বেরিয়ে জমতে থাকে। সামান্য আগুন এমনকি স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই জমে থাকা গ্যাসে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

সুমি আক্তার নামের এক নারী একের পর এক সিলিন্ডার দুর্ঘটনার খবরে বেশ আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, মনে হয় বাসার মধ্যে একটা বোমা নিয়ে আছি। কিন্তু রান্না করে তো খেতে হবে, উপায় তো নেই। আর আমি কাজে থাকলে বাসায় কাজের লোক বেশিরভাগ সময় রান্না করে। আমার পক্ষে সবসময় খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না। কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়েই থাকি।

 

যেভাবে সচেতন থাকবেন—

গ্যাস সিলিন্ডার, রেগুলেটর, পাইপ কেনার সময় সত্যায়িত সার্টিফাইড কোম্পানি কিংবা অনুমোদিত বিক্রেতাদের থেকে কেনা উচিত বলে মত দেন বিস্ফোরণ পরিদফতরের প্রধান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সবার আগে দেখতে হবে সিলিন্ডারের গায়ে মেয়াদ দেওয়া আছে কিনা।

 

সাধারণত একটি সিলিন্ডার ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে। যেটা সাধারণত ১০ বছর থেকে ১৫ বছর হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। সেই সঙ্গে কোম্পানির সিল, সেফটি ক্যাপ, পাইপ রাবারের রিং, রেগুলেটর ঠিকভাবে আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে নিতে হবে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রচলিত সিলিন্ডারগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হলেও এর অনেক নিম্নমানের যন্ত্রাংশ বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু সিলিন্ডার ভালো হলেও গ্যাস লিক হতে পারে যদি এর পাইপ, রেগুলেটর খারাপ মানের হয়। এখানে বাজারে ভালো খারাপ দুই মানের যন্ত্রাংশই আছে। কিন্তু গ্রামের দরিদ্র মানুষ অনেক সময় বাধ্য হয়ে কমদামের মানহীন পণ্য কেনেন। আবার অনেকে না জেনেই নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করছেন। এতেই বিপত্তি ঘটে।

 

এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সিলিন্ডারটি টানা হেঁচড়া করে, ধাক্কা দিয়ে, মাটিতে গড়ানো যাবে না।

 

আমাদের করণীয়—

 

  • এলপিজি সিলিন্ডার খাড়াভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। উপুড় বা কাত করে রাখা যাবে না। এমনভাবে রাখতে হবে যেন আশেপাশে কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা না লাগে।

  • সিলিন্ডার কোনো পাটাতনের ওপরে নয় বরং মাটিতে সমতল পৃষ্ঠে রাখতে হবে এবং চুলা, সিলিন্ডার থেকে কমপক্ষে ছয় ইঞ্চি উপরে রাখতে হবে।

  • সিলিন্ডার কোনোভাবেই চুলার/আগুনের খুব কাছাকাছি রাখা যাবে না। সিলিন্ডারটি লম্বা পাইপের সাহায্যে চুলা থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে স্থাপন করতে হবে।

  • সিলিন্ডার রান্নাঘরের চুলার নিচে, ক্যাবিনেটের ভেতরে কিংবা বদ্ধ অবস্থায় নয় বরং খোলামেলা জায়গায় এবং সমান ভূমিতে রাখতে হবে। যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। তবে সরাসরি সূর্যের নিচে রাখা যাবে না। ছায়া যুক্ত শুষ্ক পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে।

  • সিলিন্ডার যেখানে থাকবে সেখানকার একটি জানালা সব সময় খোলা রাখার চেষ্টা করতে হবে। না হলে ঘরের ওপরে ও নিচে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তনের সময় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন চুলা চালু না থাকে।

  • আগুন, বিদ্যুৎ এবং তাপের যেকোনো রকম উৎস সেই সঙ্গে দাহ্য, প্রজ্বলিত বা বিস্ফোরক পদার্থ এবং ভিন্ন কোনো গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে এই এলপিজি সিলিন্ডার দূরে রাখতে হবে।

  • যেখানে সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে তার আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সিলিন্ডারের ওপরে ভারী বোঝা রাখা যাবে না।

  • রান্না শুরু করার আধা ঘণ্টা আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। রান্না শেষে চুলার নব ও এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটর সুইচ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

  • অনেক দিনের বদ্ধ ঘরে প্রবেশের পর সবার আগে দরজা জানালা খুলে দিতে হবে। যদি ঘরের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় তাহলে জানালা দরজা খুলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ম্যাচের কাঠি জ্বালানো, ইলেকট্রিক সুইচ, সিলিন্ডারের রেগুলেটর কিংবা মোবাইল ফোন অন বা অফ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেকে সিলিন্ডারে লিকেজ খোঁজার সময় মোমবাতি কিংবা ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করেন। সেটা কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না।

  • অতিরিক্ত গ্যাস বের করার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারে চাপ দেওয়া, ঝাঁকানো কিংবা সিলিন্ডার গরম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে তরল এলপিজি দ্রুত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে অস্বাভাবিক চাপ বেড়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।

  • এছাড়া বছরে অন্তত একবার গ্যাস সিলিন্ডারটি এবং এর সঙ্গে ব্যবহার হওয়া নানা রকম সামগ্রীর নিয়মিত ডিস্ট্রিবিউটর বা সরবরাহকারী দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

  • সিলিন্ডারের ভালভ, গ্যাসের পাইপ বা ফিটিংস দুর্বল হলে কিংবা সিলিন্ডারে ছিদ্র থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলতে হবে। একে মেরামত, ঝালাই করে ব্যবহার করা যাবে না। তেল বা পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহার করে নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

যা বলছে ফায়ার সার্ভিস—

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের অসচেতনতা ও অসর্তকতার কারণেই মূলত গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়াও নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারগুলো স্টিলের তৈরি হওয়ায় এসব দুঘর্টনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়।

তারা বলেন, সিলিন্ডারে গ্যাস তরল আকারে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী চাপ নিয়ে থাকে। যেকোনো কারণে সেই সিলিন্ডারে আগুন ধরলে সেটি আরো বেশি উত্তপ্ত হয়ে চাপ সঞ্চয় করে ৫ মিনিটের মধ্যেই বোমা আকারে বিস্ফোরিত হয়। সিলিন্ডারগুলো স্টিলের তৈরি হওয়ায় এর তাপ ও চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে।

 

তারা আরো বলেন, উন্নত বিশ্বে এখন অনেক উন্নত সিলিন্ডারের ব্যবহার হয়ে থাকে। তাদের সিলিন্ডারগুলো কম্পোজিট ফাইবার গ্লাসের তৈরি। ফলে এসব সিলিন্ডারে আগুন ধরলেও বিস্ফোরণ ঘটে না। দেশের বাজারেও এসব সিলিন্ডার এখন পাওয়া যাচ্ছে। তাই সিলিন্ডার ক্রয়ের সময় ক্রেতাদের সচেতন থাকা জরুরি।

 

যে ধরনের সিলিন্ডার কিনবেন—

 

অসচেতনতা, অসর্তকতার ও নিম্নমানের সিলিন্ডার বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় দেশে দিনদিন বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হার। তাই সিলিন্ডার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভাবতে হবে কী ধরনের সিলিন্ডার কিনছেন। বর্তমানে বাজারে বিস্ফোরণ নিরোধক (প্রথম অ্যান্টিব্লাস্ট) গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়, যে সিলিন্ডার কম্পোজিট গ্লাস ফাইবারের তৈরি। ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে মনযোগী হবে।

আমেরিকা, ফ্রান্স, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত সিলিন্ডার কম্পোজিট গ্লাস ফাইবারের তৈরি। তাই নিরাপত্তা নিয়ে এখানে আর ঝুঁকি নেই।

 

কথা হয় টঙ্গীতে সিলিন্ডার গ্যাস কোম্পানির ডিলার ফরহাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা বাজারে বসুন্ধরা, বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করে থাকি। দিনদিন বেক্সিমকো গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে। কারণ সিলিন্ডারটি কম্পোজিট গ্লাস ফাইবারের তৈরি, স্মার্ট সিলিন্ডার। বাইরে থেকে গ্যাসের পরিমাণ দেখা যায় এবং বিষ্ফোরণ নিরোধক হওয়ায় এ কোম্পানির গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ প্রতিরোধে ও গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দেশে প্রথম অ্যান্টিব্লাস্ট (প্রথম অ্যান্টিব্লাস্ট) গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো এলপিজি লিমিটেড।

 

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, স্মার্ট সিলিন্ডারটি কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় বিস্ফোরণ হবে না; যার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এর ওজন স্টিল সিলিন্ডারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ফলে সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।

জানতে চাইলে বেক্সিমকো এলপিজি এর ডেপুটি ম্যানেজার আশিক হাসান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বেক্সিমকোর স্মার্ট সিলিন্ডারটি কম্পোজিট ফাইবার গ্লাসের তৈরি, যা আন্তর্জাতিক মানের। এ ধরনের কম্পোজিট ফাইবার গ্লাস উড়োজাহাজ ও স্পোর্টস কার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

 

তিনি আরো বলেন, স্মার্ট সিলিন্ডারে গ্যাসের লেভেল বাইরে থেকে দেখা যায়। এছাড়া সাধারণ সিলিন্ডারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক ওজন এবং মরিচা ধরে না। সবচেয়ে বড় যে সুবিধা তা হলো- এটি শতভাগ বিস্ফোরণ নিরোধক।

এদিকে, এসব বিষয়ে সজাগ থাকাসহ কঠোর অবস্থানে এসেছে সরকার। জরিমানা করাসহ তদারকি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদফতর। যারা আইন মানছেন না তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রস ফিলিং বিষয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, এলপি গ্যাস আমাদের দেশের জন্য এখন খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর কারণ আমাদের নিজস্ব যে গ্যাসের রিজার্ভ রয়েছে সেটি দিন দিন কমছে। ফলে বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হবে। আবাসিক ও পরিবহন সেক্টরে এলপি গ্যাসের প্রসার হওয়াটা খুবই দরকার। তবে এখানে সর্তক থাকতে হবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ: