বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

বগুড়ায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত নাজমুলের পাশে দাঁড়ালো জেলা পুলিশ

বগুড়ায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত নাজমুলের পাশে দাঁড়ালো জেলা পুলিশ

সংগৃহীত

ভুল চিকিৎসা ও সড়ক দুঘর্টনার শিকার হয়ে একসময়ের সাজানো সুখের জীবন হারিয়ে আজ শরীরে নানা দুরারোগ্য ব্যাধিকে সঙ্গী করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বগুড়া শহরের মালতিনগর দক্ষিণ পাড়ার নাজমুল হোসেন। বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নাজমুলের তিনটি অপারেশন হয়েছে। প্রতি মাসে শুধু ওষুধ কিনতে হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার। কৃষিবিদ বাবা ডাঃ খাদেম আলীর মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব  এখন নাজমুলের উপরে কিন্তু নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি তার পক্ষে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে কৃষিবিদ বাবার সন্তান নাজমুলের কর্মসংস্থানের জন্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছে বগুড়া জেলা পুলিশ ও রোটারী ক্লাব অব উত্তরা।

শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে ও রোটারী ক্লাব অব উত্তরার সহযোগিতায় তার হাতে ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম পিপিএম এবং রোটারী ক্লাব অব উত্তরা’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবিদ হোসেন।

চেক হস্তান্তরকালে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, নাজমুলের বাবা একজন কৃষিবিদ ছিলেন। শুরু থেকেই তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবা হারা নাজমুলের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়ানোর। কিন্তু নাজমুলের জীবনে ঘটা একের পর এক মানবিক বিপর্যয় সত্যিই অনেক দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ডাকে রোটারি ক্লাব অব উত্তরা যেভাবে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি ক্লাবের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জেলা পুলিশের পক্ষে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও নাজমুলের যে কোন প্রয়োজনে তারা পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলেও জানান এই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা।

এসময় প্রাথমিকভাবে এক লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেও নাজমুল এর চিকিৎসাসহ তার ভবিষ্যতের যে কোন মানবিক বিপর্যয়ে রোটারি ক্লাব অব উত্তরা পাশে থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন ক্লাবের সভাপতি আবিদ হোসেন।

নাজমুল ছাড়াও অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অফ বগুড়া কে দুইটি সেলাই মেশিন ও মহাস্থান প্রতিবন্ধী স্কুল কর্তৃপক্ষকে নগদ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিতরণকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরাফত ইসলাম, ফার্স্ট লেডি অফ রোটারি ক্লাব অব উত্তরা রোটারিয়ান সৈয়দা শাহানা আবিদ, ক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার শাহিদুল হাসান ফিরোজ, কৃষিবিদ মাহফুজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক, কৃষিবিদ মহসিন আলী ও কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে মানবিক সহযোগিতা পাওয়া নাজমুল কৃতজ্ঞতা স্বরে জানান, ভুল চিকিৎসা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদমই নষ্ট হয়ে গেছে। দুরারোগ্য নানা ব্যাধিসহ দুই চোখের পানিও শুকিয়ে যায় এইজন্যে বেশিক্ষণ কোন দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন না। সম্পদ বলতে একটি বাড়ি তাও ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেয়া আছে। ফলে পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তার কর্মসংস্থানের জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে সেটি দিয়ে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। এজন্য তিনি বগুড়া পুলিশ সুপার ও রোটারী ক্লাব অব উত্তরার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সর্বশেষ: